দেশের বাজারে টানা ছয়বার বাড়ার পর অবশেষে সোনার দামে বড় ধরনের দরপতনের দেখা মিলেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঘোষণা করেছে, প্রতি ভরি সোনার দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমানো হয়েছে। এই নতুন দাম সারাদেশে কার্যকর হয়েছে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
বাজুসের তথ্যমতে, দাম কমানোর পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক সোনার বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং বৈশ্বিক বাজারে মূল্য হ্রাসের প্রভাব দেশীয় দামের ওপর পড়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে সোনার দাম আরও এক দফায় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে আজকের বিশাল হ্রাস পূর্বের উচ্চমূল্য অনেকটাই সমন্বিত করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম হ্রাস ক্রেতাদের জন্য সোনা ক্রয়ের সুযোগকে সহজ করেছে। বিশেষ করে বিবাহ, সামাজিক উৎসব বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করা সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করছেন।
বর্তমানে বাজুসের নির্ধারিত নতুন দামগুলো নিচে টেবিলে দেওয়া হলো:
| সোনার ধরন | নতুন দাম (প্রতি ভরি) | হ্রাসের পরিমাণ |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,৬৮,২১৪ টাকা | ৯,২১৪ টাকা কম |
| ২১ ক্যারেট | ২,৫৬,০২৫ টাকা | ৯,২১৪ টাকা কম |
| ১৮ ক্যারেট | ২,১৯,৪৫৮ টাকা | ৯,২১৪ টাকা কম |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৭৯,১৫৯ টাকা | ৯,২১৪ টাকা কম |
বাজারের সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাজুস মোট ৩৭ বার সোনার দাম পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বাড়ানো হলেও আজকের এই বড় হ্রাস ১৩তম হ্রাসের ঘটনা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে সোনার দাম ৯৩ বার ওঠানামা করেছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পায়। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, সোনার বাজারে ক্রেতাদের জন্য ওঠানামার ফলে বিনিয়োগ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা রাখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়। ফলে বর্তমান হ্রাস শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি উপকার নয়, বরং ভবিষ্যতে মূল্য স্থিতিশীলতার দিকেও ইঙ্গিত দেয়।
সাধারণ ক্রেতারা এবং বিনিয়োগকারীরা এখন সোনা কেনার পরিকল্পনা নতুন করে তৈরি করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম হ্রাসে বাজারে সোনার চাহিদা কিছুটা বেড়ে যেতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ভবিষ্যতের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, সোনার বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং বাজুসের নিয়মিত আপডেট মনিটর করা গুরুত্বপূর্ণ।