খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক (সোহেল) কে গত বুধবার কোটবাড়ি এলাকায় ঢাকা যাওয়ার পথে জোরপূর্বক অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে অর্থ লুট করা হয়েছে। জানা গেছে, এই ঘটনা বেলা আড়াইটার দিকে ঘটেছে। অপহরণকারী চারজনই প্রাইভেট কারে করে তাকে তুলে নিয়ে কুমিল্লা সেনানিবাস পার হওয়ার পর চোখ–হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে।
আবদুর রাজ্জাক জানান, তিনি প্রথমে একজন সহকর্মীর প্রাইভেট কারে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় যান। সেখান থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার এসে থামে, আর ভিতরের একজন তাকে জিজ্ঞেস করেন উবার কল করেছেন কি না। তিনি না বললে অপহরণকারীরা গাড়িতে তুলে ঢাকার দিকে নিয়ে যান।
জিম্মি করার সময় অপহরণকারীরা তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ১৫,০০০ টাকা নগদ টাকা জবরদস্তি নিয়ে নেন। পরে তাকে আবিদ মার্কেটের পাশে ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে গিয়ে চার ধাপে ২০,০০০ টাকা করে মোট ৮০,০০০ টাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া মানিব্যাগের নগদ টাকা ও বিকাশের ২,৫০০ টাকাসহ মোট ৯৭,৫০০ টাকা লুট হয়।
| ধারাবাহিক তথ্য | পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| মানিব্যাগের নগদ | ১৫,০০০ |
| এটিএম থেকে উত্তোলন | ৮০,০০০ |
| বিকাশ থেকে লেনদেন | ২,৫০০ |
| মোট | ৯৭,৫০০ |
আবদুর রাজ্জাক বলেন, অপহরণকারীদের মধ্যে একজন গাড়ি চালক, একজন আইটি দক্ষ এবং দুইজন ডাকাতপ্রকৃতির অস্ত্রধারী ছিলেন। দাউদকান্দির শহীদনগর এলাকায় তাকে ফেলে দেওয়ার আগে তারা বারবার গুলি ও স্প্রে করে অজ্ঞান করার হুমকি দেয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষক অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপর।
আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেছেন, “ঘটনার পর থেকে আমি গভীর ট্রমার মধ্যে আছি। আমি আশা করি, পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।”
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে মোবাইল অ্যাপ এবং যাত্রী পরিবহণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে।
এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, নগর ও মহাসড়ক এলাকায় শিক্ষাবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।