খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ এক দশক ধরে ইরান মাটির নিচে বিশাল আকারের ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ নির্মাণ করেছিল। এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বিমান হামলা বা ড্রোন আক্রমণ থেকে নিজেদের অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষা করা। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেহরানের এই প্রতিরক্ষা কৌশল এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সুড়ঙ্গপথের প্রবেশদ্বারগুলো এখন তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন, পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, এসব সুড়ঙ্গের মুখে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্রাক বা লঞ্চার বাইরে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে ধ্বংস করা হচ্ছে, যা ইরানের ঘাঁটির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু সুড়ঙ্গের মুখে সরাসরি আঘাতের কারণে মাটির নিচে আটকা পড়েছে বড় ধরনের অস্ত্র এবং সরঞ্জাম। ফলে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজের ওপর নির্ভরশীল কৌশল এখন কার্যকর নয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, শিরাজ, ইসফাহান, তাবরিজ ও কেরমানশাহের কাছের কিছু ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ইতিমধ্যে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে ইরান তাদের একটি বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটির ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষমতা প্রদর্শন করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা তেমন কার্যকর হচ্ছে না।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কারিগরি দিক থেকে জটিল এবং এক জায়গায় বড় মজুদ রাখার ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ইরান বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করছে এবং তাদের ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খোলা জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে।
পেন্টাগন এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার কিছুটা কমেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তারা দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি এবং তেহরানের রক্ষিত ২,৫০০–৬,০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ।
নিচের টেবিলটিতে ইরানের মূল ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির অবস্থান এবং সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| শহর/অঞ্চল | প্রধান ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির অবস্থা | সাম্প্রতিক হামলা | কার্যক্রমের পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| শিরাজ | আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার | একাধিক আঘাত | খোলা জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন |
| ইসফাহান | গোপন সুড়ঙ্গপথ | লক্ষ্যবস্তু | রক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র সরানো |
| তাবরিজ | আন্ডারগ্রাউন্ড সুবিধা | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | ক্ষেপণাস্ত্র ছড়িয়ে দেওয়া |
| কেরমানশাহ | সুড়ঙ্গ ও গুহা | একাধিক আক্রমণ | খোলা এলাকায় স্থাপন |
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক কৌশলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির উপর নির্ভরতা কমানো এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ছড়িয়ে দেওয়া এখন তেহরানের মূল কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।