খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ইসলামের দুটি পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে দেশটি তাদের আকাশসীমাকে বহুমাত্রিক (মাল্টি-লেয়ারড) প্রতিরক্ষা জাল দিয়ে সজ্জিত করেছে, যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিকূল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করে সৌদি প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ সিস্টেম। এটি স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। পবিত্র নগরীগুলোর আশেপাশে শত শত ইন্টারসেপ্টর চব্বিশ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর সঙ্গে থাড (Terminal High Altitude Area Defense) সিস্টেম যুক্ত করে সৌদি আরব উচ্চগতিসম্পন্ন এবং দূরপাল্লার মিসাইলের প্রতিও সক্ষমতা অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে মক্কা ও জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাডের ইউনিটগুলো সক্রিয় হয়েছে, যা মিসাইলকে আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম।
দক্ষিণ কোরিয়ার K-SAM Block II মোবাইল সিস্টেম সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষার তৃতীয় স্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি বিমান ও মিসাইল উভয় লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। দ্রুতগতিতে মোবাইল হওয়ার ক্ষমতা থাকায় জরুরি অবস্থায় এটি একটি স্থানে থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়।
ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে লড়াইতে যুক্ত করা হয়েছে চীনের 30 কিলোওয়াট ফাইবার-অপটিক লেজার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আকাশে থাকা যেকোনো ছোট ড্রোনকে ধ্বংস করতে সক্ষম এই লেজার প্রযুক্তি, যা স্বল্প খরচে কার্যকর সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সর্বশেষ স্তর হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে SkyGuard 35 মিলিমিটার কামান, যা রাডার-চালিত ও ড্রোন বা মিসাইলকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে গোলা বর্ষণ করে। মক্কা ও মদিনার সীমানার ঠিক পাশে বসানো এই কামানগুলোকে বলা হচ্ছে নিরাপত্তার ‘শেষ প্রতিরক্ষা বলয়’।
| তারিখ | স্থান | হামলার ধরন | ধ্বংসকৃত লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি | আল-খারজ প্রদেশ | ক্রুজ মিসাইল | ১টি মিসাইল ভূপাতিত |
| ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি | রিয়াদ | ড্রোন | ৩টি ড্রোন ধ্বংস |
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পবিত্র শহরগুলোর আকাশ সর্বদা নিরাপদ রাখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা সমন্বয় সৌদি আরবকে যেকোনো আকস্মিক হামলার মোকাবিলায় সক্ষম করেছে।
মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক স্তরে একটি উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও প্রস্তুতির মাধ্যমে অতি গুরুতর হুমকিও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব।