খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের তেহরানে শনিবার (৭ মার্চ) তীব্র বিক্ষিপ্ত বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা মেহরাবাদ প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি সংঘটিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরে কয়েকটি বিমান আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে এবং কালো ধোঁয়ার স্তূপ আকাশে উড়ে গেছে। এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিস্ফোরণটি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার সপ্তম দিনে সংঘটিত হয়েছে। ইসরায়েল জানায়, তারা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষুণ্ন করতে সক্ষম হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
প্রাথমিকভাবে বিমানবন্দরের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী:
| ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| বিস্ফোরণের সময় | শনিবার, ৭ মার্চ, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট |
| লক্ষ্যবস্তু | মেহরাবাদ প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর |
| ক্ষতিগ্রস্ত বিমান সংখ্যা | ৩–৫ (প্রাথমিক অনুমান) |
| ধোঁয়ার মাত্রা | কালো ধোঁয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে গেছে |
| হতাহতের তথ্য | অজানা, তদন্ত চলমান |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অগ্নিদগ্ধ বিমানগুলি থেকে বড় ধোঁয়ার স্তূপ দেখা যায়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষত চীন, যে আগের দিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বিষয়ে দোলাচলে অবস্থান নিয়েছিল, তারাও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে এবং পরিস্থিতির হিসাব রাখছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিস্ফোরণ ইরানের বাণিজ্যিক ও সামরিক ক্ষমতার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত তেহরান বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, তেহরানের স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স এবং বিমানবন্দর কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বৃহৎ পরিসরে ক্ষতি ও উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে তেহরানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও সতর্কতা জোরদার করা হবে।
এই বিস্ফোরণ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।