খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, শনিবার রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে তার বার্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্মেলন আয়োজন করেছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক খান। তিনি বক্তৃতায় বলেন, ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই আস্থা বজায় রাখতে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মো. ওমর ফারুক খান আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ব্যাংক গড়ে তোলার জন্য কেবল ব্যবসার সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক। সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত, মূল্যায়ন এবং নিয়ন্ত্রণ না করলে ব্যবসার টেকসই বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তিনি কর্মকর্তা ও কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল, সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান আর্থিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। অন্যান্য সেশনে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, ড. এম কামাল উদ্দিন জাসিম এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কে এস ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী ব্যাংক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমির মহাপরিচালক এ এস এম রেজাউল করিম।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকাস্থ শাখা ও অঞ্চলের প্রধানগণ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শাখা প্রধানরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধ করা। সঠিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতার মাধ্যমে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
নিম্নে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| সুশাসন | প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা |
| ঝুঁকি শনাক্তকরণ | সম্ভাব্য আর্থিক, বাজার ও কার্যক্রম সম্পর্কিত ঝুঁকি পূর্বনির্ধারণ করা |
| ঝুঁকি মূল্যায়ন | ঝুঁকির মাত্রা, প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা |
| নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা | ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর নীতি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন |
| সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ | কর্মকর্তা ও কর্মীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি |
বক্তারা বলেন, ঝুঁকি সময়মতো শনাক্ত ও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বড় ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগ ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকের আস্থা আরও মজবুত করবে।