খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববিখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI) বর্তমানে এক চরম অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সাথে একটি বিতর্কিত ও গোপনীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জেরে প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান ক্যাটলিন কালিনোস্কি পদত্যাগ করেছেন। স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন এই প্রযুক্তি জায়ান্টের সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই কালিনোস্কির এই পদত্যাগ ওপেনএআই-এর নৈতিক অবস্থানকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে মেটা (Meta) থেকে ওপেনএআই-তে যোগ দিয়েছিলেন ক্যাটলিন কালিনোস্কি। মেটাতে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) চশমা তৈরির প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওপেনএআই-তে যোগ দেওয়ার পর তিনি রোবোটিকস এবং হার্ডওয়্যার কৌশলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কালিনোস্কি তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে পেন্টাগনের সঙ্গে ওপেনএআই-এর চুক্তির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকা থাকলেও, সঠিক বিচার বিভাগীয় তদারকি ছাড়া নজরদারি এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন প্রযুক্তি সামরিক খাতে ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নিচে ওপেনএআই ও পেন্টাগনের সাম্প্রতিক সংকটের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্যের সারসংক্ষেপ |
| বিতর্কিত চুক্তি | পেন্টাগনের গোপনীয় নেটওয়ার্কে এআই মডেল সরবরাহ। |
| প্রতিবাদী কর্মকর্তা | ক্যাটলিন কালিনোস্কি (প্রাক্তন হার্ডওয়্যার প্রধান)। |
| মূল অভিযোগ | নৈতিক নীতি লঙ্ঘন ও সামরিক নজরদারিতে এআই-এর অপব্যবহার। |
| জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া | কয়েক লাখ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন। |
| ভবিষ্যৎ ঝুঁকি | মেধাবী কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট। |
চুক্তি অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর শক্তিশালী ভাষা মডেল এবং প্রযুক্তি পেন্টাগনের বিভিন্ন গোপনীয় সরকারি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হবে। যদিও ওপেনএআই দাবি করেছে যে এই প্রযুক্তি মূলত প্রশাসনিক কাজ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য, তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন যে এটি মারণাস্ত্র তৈরি বা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগে গুগল এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ করার সময় তীব্র অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদের সম্মুখীন হয়েছিল। ওপেনএআই-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ‘মানবতার কল্যাণে এআই’—এই মূল স্লোগানকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
ক্যাটলিন কালিনোস্কির মতো একজন দক্ষ হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞের চলে যাওয়া ওপেনএআই-এর ভবিষ্যৎ রোবোটিকস এবং ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা। একদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা দলে দলে চ্যাটজিপিটি বয়কট করছেন, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অসন্তোষ স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। কালিনোস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মানুষের অনুমোদন বা ‘হিউম্যান ইন দ্য লুপ’ নিশ্চিত না করে সামরিক সরঞ্জামগুলোতে এআই ব্যবহার করা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হতে পারে।
এই ঘটনাটি সিলিকন ভ্যালি এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের একটি নৈতিক সীমা রেখা টেনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওপেনএআই তাদের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় নাকি সামরিক চুক্তির পথেই অটল থাকে।