খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় নীরব চাঁদাবাজি ও গুপ্ত হামলার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওষুধের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এরা মাসিক বা এককালীন চাঁদা দাবির পাশাপাশি হুমকি, অপহরণ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
তাসকিন গাজী নামের এক ব্যক্তি প্রথম আলোর কাছে বলেন, “আমি এত বছর রাজনীতি করছি। এখন কি আমি না খেয়ে থাকব? ভাই, আমি এখন শ্রাবণ মাসের পাগলা কুত্তার মতো হয়ে গেছি।” তিনি নিজেকে ছাত্রদল বা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শাহবাগে এমন কয়েকজন স্থানীয় নেতা-চরিত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে উঠে এসেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজরা নির্ধারিত হারে মাসিক ‘রেট’ হিসেবে অর্থ আদায় করে। টাকা না দিলে কর্মচারীকে হুমকি, তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে হামলা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি পরীবাগ সুপারমার্কেটের একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী মো. রিয়াজ হোসেনের ওপর গুপ্ত হামলা চালানো হয়। লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে ৫২ হাজার টাকা এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে একই দোকানে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দেওয়া মো. মিথুন ও মো. বাইজিদ মোল্লা এক লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।
একাংশ ব্যবসায়ী জানায়, চাঁদাবাজির একটি অংশ বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবের কাছে যায়। খাজা হাবিব বলেন, “আমি কোনো টাকা পাই না। শুধু বলি—রোগী বা দোকানদারদের ওপর যেন অত্যাচার না হয়।”
আইসিইউর ওষুধ সরবরাহ নিয়েও বিশেষ চক্র সক্রিয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ৩৯টি শয্যা রয়েছে। রোগীর জন্য দৈনিক ২ হাজার থেকে ২৫–৩০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম (খোকন) ঠিক করেন কোন দোকান থেকে ওষুধ যাবে এবং ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় হয়।
নিচের টেবিলটিতে শাহবাগের ব্যবসা কেন্দ্রগুলিতে মাসিক চাঁদাবাজি ও হামলার তথ্য তুলে ধরা হলো:
| মার্কেট/কেন্দ্র | মাসিক চাঁদার হার | সাম্প্রতিক হামলা/লুটপাট | উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি |
|---|---|---|---|
| পরীবাগ সুপারমার্কেট | ১০,০০০–১,০০,০০০ টাকা | ২৭ ফেব্রুয়ারি গুপ্ত হামলা | মো. মিথুন, বাইজিদ মোল্লা |
| শাহবাগ মেডিসিন মার্কেট | ১০,০০০ টাকা | বিভিন্ন হুমকি ও অপহরণ | মো. মিথুন |
| বিপণিবিতান মেডিসিন মার্কেট | ১০,০০০ টাকা | ১৯ অক্টোবর, ১২ জানুয়ারি হামলা | বাইজিদ, মিথুন |
| আইসিইউ সরবরাহ কেন্দ্র | ১০,০০০ টাকা/দোকান | চাঁদার নিয়মিত দাবি | শহীদুল ইসলাম (খোকন) |
| পরীবাগ চাঁদ মসজিদ মার্কেট | ১০,০০০ টাকা | আগের ঘটনা অনুযায়ী অপহরণ | মিথুন, বাইজিদ |
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাঁদা দিতে না পারলে ঝামেলা হতে পারে—এই ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। একাধিক হামলার ঘটনা দেখার পরও ব্যবসায়ীরা চুপচাপ টাকা প্রদান করছেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, মারধরের ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে চাঁদাবাজির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ছাড়া এই চক্র ভাঙা সম্ভব হবে না।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত এলাকায় এমন চাঁদাবাজি ও গুপ্ত হামলার ঘটনা স্থানীয় ব্যবসা ও রোগীদের জন্য উদ্বেগজনক পরিবেশ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।