খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
ইরান সম্প্রতি ৩৪তম দফার সামরিক হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিসমূহ। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই অভিযানের দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তথ্যটি দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির প্রায় পাঁচ গুণ গতিতে চলতে সক্ষম এবং অত্যন্ত দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করতে পারে। এই অভিযানে ব্যবহৃত অন্য তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হল ব্যালিস্টিক, ক্রুজ এবং শর্ট-রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার সময় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের জন্য এগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যস্থল এবং ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| লক্ষ্যস্থান | দেশ | ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন | লক্ষ্যবস্তুর ধরন |
|---|---|---|---|
| আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি | সংযুক্ত আরব আমিরাত | হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক, ক্রুজ, শর্ট-রেঞ্জ | মার্কিন সামরিক ঘাঁটি |
| জুফায়ার বিমান ঘাঁটি | বাহরাইন | হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক, ক্রুজ, শর্ট-রেঞ্জ | মার্কিন সামরিক ঘাঁটি |
| রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি | ইসরায়েল | হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক, ক্রুজ, শর্ট-রেঞ্জ | ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি |
| হাইফা বেসামরিক বিমানবন্দর | ইসরায়েল | হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক, ক্রুজ, শর্ট-রেঞ্জ | বেসামরিক বিমানবন্দর |
প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত গোপন ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে আঘাত হেনেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং এই ধরনের প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের হাইপারসনিক এবং বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এই ঘটনার পর কৌশলগত প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।
এই হামলা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি হাইপারসনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অঞ্চলটিতে সামরিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেখাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং বহুমুখী সামরিক কৌশলের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়ে চলেছে।