খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দামামা বেজে উঠেছে। আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল। তবে এই সিরিজের শুরুতেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। দলটির ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে ওয়ানডে ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনজন ব্যাটসম্যানই কাল আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি এই তরুণদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজের জন্য ঘোষিত পাকিস্তান দলে ওয়ানডে অভিষেক না হওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা মোট ছয়জন। এর মধ্যে চারজন ক্রিকেটারের আবার এর আগে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলারই অভিজ্ঞতা নেই। প্রথম ওয়ানডেতে শাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত ওপেনিং জুটিতে নামবেন এবং তিন নম্বরে ব্যাট করবেন শামিল হোসেন। মূলত বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতের শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করতেই পিসিবি এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিচে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সম্ভাব্য অভিষেক হতে যাওয়া এবং পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্সের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
| সম্ভাব্য অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান | শাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত ও শামিল হোসেন |
| দলে অভিষেক না হওয়া মোট খেলোয়াড় | ০৬ জন |
| পাকিস্তানের সর্বশেষ সিরিজ জয় | দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে |
| বাংলাদেশের সর্বশেষ ঘরের মাঠের ফল | ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় |
| সিরিজ ভেন্যু ও সময় | মিরপুর, ১১ মার্চ ২০২৬ (সকাল ১১টা) |
পাকিস্তানের দল ঘোষণার পর থেকেই ক্রিকেট অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল বাবর আজমের অনুপস্থিতি। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও বাবর আজম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সারিতে থাকা এমন একজন ব্যাটসম্যান কেন বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দল থেকে বাদ পড়লেন, তা নিয়ে ব্যাপক বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের ধারণা ছিল, অধিনায়কত্ব বা অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দলের জেরে হয়তো তাকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
তবে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শাহিন শাহ আফ্রিদি এই বিতর্কটি স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাবর আজমকে মোটেই দল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। আফ্রিদি বলেন, “দেখুন, বাবর আজম বা অভিজ্ঞ কাউকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা কেবল আসন্ন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তরুণদের একটু পরখ করে দেখতে চাইছি। তারা আমাদের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ সিরিজে এই নতুনদের খেলিয়ে আমরা দেখতে চাই তারা চাপের মুখে কেমন ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় টুর্নামেন্টের আগে দলের গভীরতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই বিশ্রাম বা আবর্তন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে গত বছরটি বাংলাদেশের জন্য মিশ্র অনুভূতির ছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান রয়েছে উড়ন্ত ফর্মে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয়ের পর শ্রীলঙ্কাকে তাদের ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করে আসা আফ্রিদি বাহিনী কোনোভাবেই স্বাগতিকদের হালকাভাবে নিচ্ছে না।
আফ্রিদি স্বীকার করেছেন যে, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ অত্যন্ত বিপদজনক দল। স্পিনবান্ধব উইকেটে টাইগারদের হারানো যে কঠিন হবে, তা তিনি আগেভাগেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন। আগামীকালকের ম্যাচে একদিকে থাকবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে পাকিস্তানের তারুণ্যের তেজ। নবীন এই পাকিস্তান দল মিরপুরের চেনা কন্ডিশনে কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।