খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত আজ বুধবার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদ পাচারের অভিযোগে মামলা তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক মিজানুর রহমান অভিযোগ গঠন করে আদালতে কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন আমাদের প্রতিনিধি কে নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযোগ গঠনের পর আগামী ৪ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। এই মামলায় সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী দেশত্যাগে নিষিদ্ধ ছিলেন, তবে দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা বিদেশে গেছেন।
দুদক অভিযোগ করেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসারকে দেখিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এরপর জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ঋণ অনুমোদনের সময় ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছিল, যা উপেক্ষা করা হয়।
ঋণ ও পাচারের বিবরণ
| বিষয় | পরিমাণ / বিবরণ |
|---|---|
| মোট ঋণ | ২৫ কোটি টাকা |
| আরামিটের পূর্ব দায় পরিশোধ | ১৪.৯১ কোটি টাকা |
| জুবিলি রোড শাখা থেকে উত্তোলন | ৯.০৯ কোটি টাকা |
| পাচার প্রক্রিয়া | হুন্ডি ও হাওলা, শুরু দুবাই |
| বিদেশে সম্পদ ক্রয় | যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া |
দুদকের দাবি অনুযায়ী, এই অর্থ হুন্ডি ও হাওলার মাধ্যমে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়, এরপর বিভিন্ন দেশে প্রপার্টি ও রিয়েল এস্টেট কেনা হয়। তদন্তে পাওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, বিদেশে প্রায় ১,১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ অন্তত ৯টি দেশে ছড়িয়ে আছে। মূল দেশগুলো হলো:
| দেশ | সম্পত্তির সংখ্যা |
|---|---|
| যুক্তরাজ্য | ৩৪৩টি |
| দুবাই | ২২৮টি |
| যুক্তরাষ্ট্র | ১০টি |
| থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া | অনান্য বিভিন্ন সম্পত্তি |
মামলায় আরও বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ব্যাংকের কার্যক্রমে ‘ডি ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়া তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামান ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ঋণ অনুমোদনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।
এছাড়া তদন্তকালে রুখমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াসের প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র উদ্ধার করা হয়, যা বিদেশে সম্পদ লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই মামলার প্রেক্ষিতে আগামী সাক্ষ্যগ্রহণ ও আদালতের কার্যক্রমের দিকে দেশজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে, কারণ এটি বাংলাদেশে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ পাচারের সংবেদনশীল মামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এইভাবে মামলা চলার সঙ্গে সঙ্গে আগামী ৪ এপ্রিল থেকে আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।