খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি বা অস্থায়ী ছাড় (ওয়েভার) চেয়েছে। ভারতের মতোই বাংলাদেশও এই ধরনের সুবিধা পাওয়ার আশা করছে। বিষয়টি গত বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমাদের প্রতিনিধি কে জানিয়েছেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার অস্থায়ী ওয়েভার দিয়েছে। বাংলাদেশও একই সুযোগ পেলে আমাদের অর্থনীতির জন্য এটি বড় সহায়তা হবে। বিষয়টি তারা ওয়াশিংটনে পাঠাবে, এখন দেখা যাক কী হয়।”
বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচ্য হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ maximally কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য।”
মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারের করণীয় কী—এ বিষয়েও সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদি হোক, মধ্যমেয়াদি হোক বা দীর্ঘস্থায়ী হোক—প্রতিটি পরিস্থিতি মাথায় রেখে আমরা পরিকল্পনা করছি। আজকের বৈঠকেও এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”
নিচের টেবিলে বৈঠকে আলোচ্য বিষয় ও তাদের প্রাসঙ্গিক বিবরণ সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | আলোচনা/বিবরণ |
|---|---|
| রাশিয়ার তেল আমদানি | যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েভার পাওয়ার সম্ভাবনা, ভারতের সঙ্গে তুলনা। |
| আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার | তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা, জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব। |
| বিনিয়োগ ও বাণিজ্য | দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য বিনিয়োগ চুক্তি। |
| সরকারি প্রতিষ্ঠান | ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও দক্ষতা উন্নয়ন। |
| আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব | স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে সরকারের প্রস্তুতি। |
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে জানান যে, এখন পর্যন্ত ওয়েভার প্রাপ্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বিষয়টি ওয়াশিংটনে প্রেরণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই এর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে। বৈঠক থেকে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সর্বোচ্চ রূপে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পষ্টতই জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি সক্রিয় কৌশল গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।