খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ডোজা ক্যাট সম্প্রতি নিজের শারীরিক গঠন, অতীতের অস্ত্রোপচার এবং সম্ভাব্য একটি স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন। গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে অস্বাভাবিকভাবে চর্বি জমার যে অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল, সেটি হয়তো লিপেডেমা নামের একটি রোগের লক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ত্রিশ বছর বয়সী এই শিল্পী বলেন, হঠাৎ করেই বিষয়টি নিয়ে তাঁর মনে নতুন উপলব্ধি জন্ম নেয়। লিপেডেমা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও আক্রান্ত মানুষের ছবি দেখার পর তিনি অনুভব করেন, তাঁর নিজের শরীরের গঠন অনেকাংশে সেই লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। বিশেষ করে পায়ের গঠন এবং উরুর অংশে জমে থাকা চর্বির ধরন দেখে তিনি সন্দেহ করেন যে তিনি হয়তো এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন।
লিপেডেমা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অবস্থা, যেখানে শরীরের নির্দিষ্ট অংশ—বিশেষ করে উরু, পা অথবা বাহুতে—অস্বাভাবিকভাবে চর্বি জমতে থাকে। সাধারণ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ বা ব্যায়ামের মাধ্যমে অনেক সময় এই চর্বি কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রোগের পেছনে বংশগত কারণও থাকতে পারে এবং পরিবারের একাধিক সদস্যের মধ্যে একই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ডোজা ক্যাট জানান, তাঁর ধারণা অনুযায়ী তাঁর মায়ের শরীরেও একই ধরনের লক্ষণ থাকতে পারে। এ কারণে তিনি মনে করেন, এটি বংশগতভাবে তাঁর শরীরেও দেখা দিতে পারে।
শিল্পী অতীতের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, কয়েক বছর আগে একটি সংগীতচিত্র নির্মাণের সময় বিশেষ ধরনের পোশাক তৈরির জন্য তিনি নিজের শরীরের মাপ পাঠিয়েছিলেন। তখন প্রস্তুতকারকেরা সেই মাপ দেখে বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেগুলো বাস্তবসম্মত কি না। সেই ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল এবং তিনি তখন থেকেই নিজের শরীরের গঠন নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবতে শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি কখনোই মারাত্মকভাবে অতিরিক্ত ওজনের ছিলেন না। তবে নিতম্ব, উরু, হাঁটু, পায়ের পেশি এবং গোড়ালির অংশে তুলনামূলক বেশি চর্বি জমে থাকত। এই অস্বাভাবিক গঠন অনেক সময় তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হতো এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে আত্মসচেতন হয়ে পড়তেন।
দুই হাজার তেইশ সালে তিনি শরীরের কিছু অংশের অতিরিক্ত চর্বি অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করান। সে সময় মূলত উরু, কোমর এবং পিঠের নিচের অংশের চর্বি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তিনি লক্ষ্য করেন, শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে।
উরুর চর্বি কমে যাওয়ার ফলে নিতম্ব তুলনামূলকভাবে অনেক বড় দেখাতে শুরু করে। এতে শরীরের গঠনে অস্বাভাবিকতা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে আবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তবে অতীতে ওই অংশে অতিরিক্ত চর্বি থাকার কারণে এখন কিছু জায়গায় ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিপেডেমা সম্পর্কে অনেক মানুষেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। অনেক সময় এটিকে সাধারণ স্থূলতা বা ত্বকের সমস্যা হিসেবে ভুল বোঝা হয়। নিচের সারণিতে রোগটির বিভিন্ন পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।
| পর্যায় | লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| প্রথম পর্যায় | ত্বকের নিচে ছোট ছোট গাঁটের মতো অনুভূতি, সামান্য অমসৃণতা |
| দ্বিতীয় পর্যায় | ত্বক আরও অমসৃণ হয়, চর্বির স্তর ঘন হতে শুরু করে |
| তৃতীয় পর্যায় | পা বা বাহুর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হয়ে যায় |
| চতুর্থ পর্যায় | তীব্র ফোলা সৃষ্টি হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দেয় |
ডোজা ক্যাটের এই খোলামেলা বক্তব্য ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচিত ব্যক্তিরা যখন নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তখন তা সমাজে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য লিপেডেমা সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা ও সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে বলেও অনেকেই মনে করছেন।