খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
দিনাজপুরের বিরামপুরে বিশেষ অভিযানে নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি মনির নামেই পরিচিত, স্থানীয়ভাবে সাথী নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন এলাকা সংলগ্ন কেডিসি রোড থেকে সাথীকে আটক করা হয়। অভিযানে তার হেফাজত থেকে ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল এবং ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক সাথী ওই এলাকার শহীদ মিয়ারের মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ১০টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে স্থানীয় এলাকায় কুখ্যাতি লাভ করেছেন।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, “কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সাথীকে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও নজরদারির পর আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং উদ্ধার হওয়া মাদকের ভিত্তিতে তাকে বুধবার দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা মাদক নির্মূলের জন্য এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখব।”
উদ্ধার হওয়া মাদকের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | মাদকপ্রকার | পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ | ট্যাপেন্টাডল | ৫০ পিস | কৌশলে ছোট প্যাকেট হিসেবে বহন করা হয়েছিল |
| ২ | ইয়াবা | ১০ পিস | অব্যবহৃত ট্যাবলেট |
স্থানীয়দের মধ্যে মনে করা হচ্ছে, সাথী এলাকার মাদক চক্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করতেন। তার ধরা পড়ার খবর এলাকায় শোক-উদ্বেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও বিরামপুরসহ আশেপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের চক্র ভাঙার চেষ্টা করা হবে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযান চলাকালীন সময়ে স্থানীয় যুবক ও মাদক সচেতন নাগরিকদের সহায়তা নেয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় বিরামপুর থানা পুলিশের কার্যক্রম ও সাফল্যের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, ধাপে ধাপে মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও যুব সমাজকে মাদক থেকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্য পুলিশ বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে।