খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় ব্যাংকে জাল টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করার সময় আব্দুর রহিম ফকির নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সদরের পূবালী ব্যাংকের মুকসুদপুর শাখা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যাংকিং নিরাপত্তা ও আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় সতর্কতার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
আটক আব্দুর রহিম ফকির মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. খোকন ফকিরের ছেলে। পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে তিনি পূবালী ব্যাংকের শাখায় এসে এক হাজার টাকার ৯০টি নোট একটি নির্দিষ্ট হিসাব নম্বরে জমা দেওয়ার জন্য কাউন্টারে উপস্থাপন করেন। মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার টাকা।
ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার টাকা গ্রহণের সময় নোটগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, নোটগুলোর কাগজের মান, জলছাপ এবং নিরাপত্তা সুতা আসল নোটের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। এতে তার সন্দেহ আরও প্রবল হয়। পরে তিনি আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নিশ্চিত হন যে, নোটগুলো জাল।
এরপর ক্যাশিয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শাখা ব্যবস্থাপককে অবহিত করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য কৌশলে ওই ব্যক্তিকে ব্যাংকের ভেতরেই বসিয়ে রাখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মুকসুদপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আব্দুর রহিম ফকিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কীভাবে বা কোথা থেকে জাল নোটগুলো সংগ্রহ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এর পেছনে একটি বড় জাল নোট চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, জাল মুদ্রা প্রচলন দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতেও পুলিশ কাজ করছে। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে নোট যাচাইয়ের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিচে ঘটনাটির প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | পূবালী ব্যাংক, মুকসুদপুর শাখা, গোপালগঞ্জ |
| ঘটনার তারিখ | ১২ মার্চ |
| আটক ব্যক্তি | আব্দুর রহিম ফকির |
| পিতার নাম | মো. খোকন ফকির |
| বাড়ি | গোবিন্দপুর গ্রাম, মুকসুদপুর |
| জাল নোটের পরিমাণ | ৯০ হাজার টাকা |
| নোটের ধরন | ১,০০০ টাকার ৯০টি নোট |
| আটককারী সংস্থা | মুকসুদপুর থানা পুলিশ |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | মামলা করে আদালতে পাঠানো হবে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দ্রুত সতর্কতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের ফলে জাল টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারেনি। এতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি ও প্রতারণা থেকে গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনা জাল মুদ্রা প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরেছে।