খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থনকে প্রতিফলিত করে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এই অধিবেশনে অংশ নিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, যাতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তাসহ উভয় দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়ন করা যায়।
উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ
সন্ত্রাসবাদ দমন
ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসপিইএআর (SPAR – Special Program for Embassy Augmentation and Response) প্রোগ্রাম
ইলেকট্রোনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ENV) বাস্তবায়ন
পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যু
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য এসপিইএআর প্রোগ্রাম কার্যকর করতে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর জরুরি। না হলে, এ তহবিল অন্যত্র চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে ENV প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের সঙ্গে দ্রুত এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা/কর্মশালার ব্যবস্থা নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। তবে অবসর ও বদলিজনিত কারণে এর ফলাফল এখনও সম্পূর্ণ সফল হয়নি।
| সংস্থা | কর্মকর্তা/পদবী |
|---|---|
| স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ |
| স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান |
| যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস | পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সিলর এরিক গেলান |
| যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস | পলিটিক্যাল অফিসার সান স্যান্ডার্স |
| যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস | পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট টানিক মুনির |
| যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস | পলিটিক্যাল অফিসার রিলে পালমারট্রি |
রাষ্ট্রদূত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশেষভাবে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।