খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ১২ জন চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও নার্স নিহত হয়েছেন। শনিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
হামলা দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ কালাউইয়া শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংঘটিত হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে সাওয়ানেহ এলাকায় পৃথক এক হামলায় হিজবুল্লাহ ও তাদের সহযোগী সংগঠন আমাল মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত দুই জন প্যারামেডিক নিহত হন। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, এবং স্থানীয় মানুষজন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে বাঁচতে তাদের বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
| স্থান | নিহত | আহত | লক্ষ্যবস্তু |
|---|---|---|---|
| বুর্জ কালাউইয়া | ১২ চিকিৎসাকর্মী | অনেকে গুরুতর | স্বাস্থ্যকেন্দ্র |
| সাওয়ানেহ | ২ প্যারামেডিক | অজানা | হিজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্ট সংশ্লিষ্ট এলাকা |
এই হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। লেবাননের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা ইরান উপকূলে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, “ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে এবং খারগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।”
এই ঘটনাগুলি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সংঘাতের কারণে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও ইরান উপকূলীয় অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসাকর্মীদের মৃত্যু স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা দোষীদের বিচারের আহ্বান জানিয়েছে এবং উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণের জন্য চাপ দিয়েছে।