খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের দিন হলো ৯ মার্চ, যখন দুই বাংলাদেশি নাগরিক এজাজ আহমাদ এবং আসিফ জহির প্রথমবারের মতো ‘অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথন’ সম্পূর্ণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ৪২.২ কিলোমিটার বরফাচ্ছাদিত পথ অতিক্রম করে তারা ফিনিশিং লাইন পার হন, যা বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মানচিত্রে নতুন উচ্চতা এনে দিয়েছে।
অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের পৌঁছানোও ছিল এক চ্যালেঞ্জ। ড্রেক প্যাসেজ হয়ে দুইদিন নৌপথে যাত্রা করে তারা ম্যারাথন শুরুর অবস্থানে পৌঁছান। ড্রেক প্যাসেজকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদসংকুল জলপথের একটি হিসেবে ধরা হয়।
ম্যারাথনের পথ বরফ, কাদা, ভাঙা পাথর ও হিমবাহে ঢাকা। অংশগ্রহণকারীরা চীন, আর্জেন্টিনা ও চিলির গবেষণা কেন্দ্র পার হয়ে ৪২.২ কিলোমিটার পথ দৌড়ান। চলার পথে তারা অসংখ্য হিমবাহ এবং কঠিন পাথুরে পথ অতিক্রম করেন। প্রতি বছর প্রায় ১৫০ গিগাটন বরফ গলছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর প্রভাবের প্রতি সতর্ক করে।
এজাজ আহমাদ বলেন, “অ্যান্টার্কটিকা কেবল সাদা নয়, বরং কাদা ও পাথরের পথের মধ্য দিয়ে দৌড়ানো এক চ্যালেঞ্জ। আমাদের দেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য এটি অত্যন্ত শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।”
আসিফ জহির যোগ করেন, “এই দৌড় আমাদের শিখিয়েছে যে সহনশীলতা এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও অসাধ্য সাধন সম্ভব। বাংলাদেশি চেতনা এবং সাহসিকতা এই ম্যারাথনের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে।”
এজাজ আহমাদ বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) এবং গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (জিওয়াইএলসি) এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণদের নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করছেন।
আসিফ জহির অনন্ত গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং গুগলের সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মোট দূরত্ব | ৪২.২ কিলোমিটার |
| অংশগ্রহণকারীর সর্বোচ্চ সংখ্যা | ১০০ জন |
| বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী | এজাজ আহমাদ, আসিফ জহির |
| চ্যালেঞ্জ | বরফ, কাদা, পাথর, হিমবাহ, গবেষণাকেন্দ্র পার হওয়া |
| জলপথ | ড্রেক প্যাসেজ, দুইদিনের নৌযাত্রা |
| জলবায়ু উদ্বেগ | প্রতি বছর ১৫০ গিগাটন বরফ গলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট |
বাংলাদেশি দুই স্পর্ধীর এই সাফল্য শুধু ক্রীড়ার জন্য নয়, বরং সহনশীলতা, নেতৃত্ব এবং জাতীয় গৌরবের উদাহরণ স্থাপন করেছে। অ্যান্টার্কটিকার চরম পরিবেশে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া এই দুই তরুণ প্রমাণ করেছেন যে কোনো অসম্ভব লক্ষ্যও ধৈর্য, প্রস্তুতি এবং সাহসিকতার মাধ্যমে অর্জনযোগ্য।
এ ঘটনা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেবে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অর্জনে উদ্দীপনা জোগাবে। অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথনের এই ইতিহাস বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।