খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় গাঁজা সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগে রাজু মল্লিক (৩২) নামের এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করার পর তাৎক্ষণিক শুনানি শেষে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য সেবন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামে রাতের দিকে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রাজু মল্লিককে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় এবং মাদকদ্রব্য সংরক্ষণের অভিযোগ নিশ্চিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার সম্পন্ন করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু মল্লিক অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে হাসান মল্লিকের ছেলে হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল বলে জানা গেছে। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নাজির সুব্রত কুমার রায় জানান, শনিবার রাত প্রায় বারোটার দিকে অভিযান পরিচালনার সময় রাজু মল্লিককে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাকে সতর্ক করা হয় যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, সমাজে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক সেবন ও সংরক্ষণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী রাজু মল্লিককে এই দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, তরুণ সমাজকে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি আইন প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ। মাদক সেবনের কারণে পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে মাদককে দায়ী করা হয়। এজন্য প্রশাসন স্থানীয় জনগণকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | রাজু মল্লিক (৩২) |
| পিতার নাম | হাসান মল্লিক |
| ঠিকানা | চলিশিয়া গ্রাম, চলিশিয়া ইউনিয়ন, অভয়নগর, যশোর |
| অভিযোগ | গাঁজা সেবন ও সংরক্ষণ |
| আদালতের ধরন | ভ্রাম্যমাণ আদালত |
| বিচারক | উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু |
| দণ্ড | ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড |
| অর্থদণ্ড | ৫০০ টাকা |
| আইন | মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮, ধারা ৩৬(১) |
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জিরো সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মাদক নির্মূলের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এলাকায় মাদকদ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।