খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
বরিশালের উজিরপুরে চাঁদার দাবিতে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনির সরদার (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ধামুরা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তে মনির সরদারকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার রাতেই ড্রেজার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি মনির সরদারকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মনির সরদার উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ ধামুরা গ্রামের মৃত হামেদ সরদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম চুক্তিভিত্তিক বালু ভরাটের কাজ করেন। তিনি উপজেলার শোলক ইউনিয়নে পাইপ স্থাপন করে বালু ভরাট শুরু করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী:
| তারিখ | ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ৪ জানুয়ারি | চাঁদার দাবির প্রথম ঘটনা | মনির সরদারের নেতৃত্বে ৭–৮ জন দেশীয় অস্ত্রধারী বালুভরাট স্থলে পৌঁছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রথমে তিন দফায় এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। |
| শুক্রবার (মামলার দিন) | চূড়ান্ত চাঁদার দাবির ঘটনা | দক্ষিণ ধামুরা গ্রামের রাঢ়ী বাড়ির সামনে মনিরুল ইসলাম চাঁদার অর্থ দিতে অস্বীকার করলে, মনির সরদার মেকানিক আবু বক্কর হাওলাদারকে হাতুড়ি দিয়ে আহত করেন। স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। |
| শুক্রবারই | মামলা দায়ের | মনির সরদার, তাঁর এক সহযোগী এবং অজ্ঞাত আরও আটজনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। |
| শনিবার | গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার | মনির সরদারকে ধামুরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাঁকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক সুজন। |
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মনির সরদারকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।” কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলা সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নজরদারি অব্যাহত থাকবে।