খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় টিকটক ভিডিও তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম মো. ইমরান তালুকদার (২৫), যিনি সামাজিক মাধ্যমে “বিপি ইমরান” নামে পরিচিত। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ইমরান আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করতেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, ইমরান বেশ কিছুদিন ধরে তাকে দিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করাতেন। প্রথমদিকে তিনি এতে অংশ নিলেও পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা কারণে টিকটক ভিডিও তৈরিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ মার্চ দুপুরে ওই তরুণীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন ইমরান। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর—জুনায়েত ও সোমাইয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর তারা ইমরানকে সহায়তা করেন এবং ভুক্তভোগীকে মারধরও করেন। পরে হুমকি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া ওই তরুণী পরিবারের সহায়তায় শনিবার (১৪ মার্চ) গভীর রাতে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইমরানকে প্রধান আসামি এবং জুনায়েত ও সোমাইয়াকে সহযোগী আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে অভিযুক্ত ইমরানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসংক্ষেপ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | পলাশবাড়ী এলাকা, আশুলিয়া, সাভার |
| ঘটনার তারিখ | ১২ মার্চ (অভিযোগ অনুযায়ী) |
| মামলা দায়ের | ১৪ মার্চ গভীর রাত |
| গ্রেফতারের তারিখ | ১৫ মার্চ বিকাল |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. ইমরান তালুকদার ওরফে বিপি (২৫) |
| সহযোগী অভিযুক্ত | জুনায়েত ও সোমাইয়া |
| অভিযোগ | ধর্ষণ ও মারধর |
| অভিযোগকারী | ভুক্তভোগী তরুণী |
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইমরান নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্যও অভিযান চলছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় অনেক তরুণ-তরুণী বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে যুক্ত হচ্ছেন। তবে কখনো কখনো এই কার্যক্রম ঘিরে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, চাপ বা অনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নেন, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।