খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে শিশুশ্রমের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি অবশ্যই নিশ্চিত করা হলেও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ মাঝপথে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে ঘটছে। ২০১৯ সালে দেশের শিশুশ্রমের হার ছিল ৬.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে শিশু শ্রম প্রায় ২.৪ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ (সোমবার) রাজধানীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে “নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এছাড়া সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী।
প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন ভর্তি নিশ্চিত হলেও শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক স্তরে ছেলেদের ভর্তির হার একসময় প্রায় ৯৮ শতাংশ হলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে উত্তরণের হারও সন্তোষজনক নয়। দরিদ্র পরিবার, গ্রামীণ এলাকা ও সামাজিক ঝুঁকির কারণে অনেক শিশু অল্প বয়সে উপার্জনের জন্য শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।
সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের শিক্ষাব্যয়ে বৈষম্য প্রকট। মোট শিক্ষা ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি পরিবারের খরচ নিজস্ব অর্থ থেকে আসে। যদিও সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে, বাস্তবে অতিরিক্ত গাইড বই, প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং খরচ পরিবারকে বহন করতে হয়।
| শিক্ষা পর্যায় | শিক্ষার্থী সংখ্যা | ভর্তি হার (%) | প্রধান চ্যালেঞ্জ |
|---|---|---|---|
| প্রাথমিক | 10,500,000 | 91 | মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া |
| মাধ্যমিক | 5,800,000 | 75 | দরিদ্র পরিবার ও গ্রামীণ এলাকা |
| উচ্চশিক্ষা | 1,200,000 | 62 | শিক্ষিত বেকারত্ব, দক্ষতা ঘাটতি |
অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার অভাব, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য অবকাঠামোর অভাব এবং মেয়েদের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধার সীমিততা।
উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় বা ডিগ্রি অর্জন করলেও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে, তারা আধুনিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে। দেশকে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তর করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, শিশুশ্রম হ্রাস, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ব্যয় ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা দেশের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক। কার্যকর শিক্ষানীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব।