সান্তোসের জার্সিতে খেলতে থাকা ব্রাজিলিয়ান স্টার নেইমারের কাছে প্রতিটি ম্যাচ এখন কেবল গোল বা অ্যাসিস্ট নয়, বরং নিজেকে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য প্রমাণের একটি সুযোগ। সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান লিগে কোরিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে নেইমার সেই প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করলেও ফলাফল তেমন তৃপ্তিদায়ক হয়নি।
ম্যাচের একমাত্র গোলের জন্য অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সান্তোস ড্র করেছে ১-১ গোলে। এই ফলাফলের ফলে ৬ ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে সান্তোস লিগ টেবিলের ১৩ নম্বরে রয়েছে।
নেইমারের সাম্প্রতিক ম্যাচ পরিসংখ্যান
| বিষয় | পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোট শট | ৩ | তার মধ্যে ২টি ফ্রি-কিক |
| সফল শট | ০ | কোন গোল হয়নি |
| মোট পাস | ২৯ | ৯টি অসফল পাস |
| ফাউল (প্রাপ্ত/করা) | ৩ / ২ | প্রতিপক্ষের শক্তিশালী মার্কিং |
| গোল/অ্যাসিস্ট | ০ / ১ | একমাত্র অ্যাসিস্টে অবদান |
ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেইমার কয়েকবার অতিরিক্ত ড্রিবল করার ফলে ভালো আক্রমণও নষ্ট করেছেন। কোরিন্থিয়ান্সের কড়া মার্কিংয়ে তিনি ভুগেছেন। সব মিলিয়ে দিনটি ছিল বেশ “সাদামাটা”, যা তার জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ম্যাচ শেষে নেইমার বলেছেন, “আমি জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপে খেলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফের। আমি দলে থাকি বা না থাকি, সব সময়ই জাতীয় দলকে সমর্থন করব।”
এদিন মাঠে ব্রাজিলের প্রধান কোচ Carlo Ancelotti উপস্থিত ছিলেন না। মাঠে ছিলেন তাঁর সহকারী কোচ Mino Fulco ও Francesco Mauri। সম্ভবত তাঁদের রিপোর্ট ভিত্তিকই নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ব্রাজিল আগামী ২৬ মার্চ ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলবে এবং ১ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচ দুটি বিশ্বকাপ দলে চূড়ান্ত নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন এবং শেষ হবে ১৯ জুলাই। নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবে তার নির্বাচনের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে নেইমারের সাম্প্রতিক “সাদামাটা” পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ফেরার আশা নিয়েই বিতর্ক তৈরি করেছে, যা ব্রাজিলীয় ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।