খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
বরিশালের বাবুগঞ্জে এক ১০ বছর বয়সী শিশু রাইসা আক্তারকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাইসার পরিবারের দাবি, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ১৫ বছর বয়সী কিশোর সিফাত সিকদার তার ওপর আগুন দিয়েছেন। ঘটনার পর পুরো গ্রামে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাইসা আক্তার বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে। অভিযুক্ত সিফাত সিকদার একই গ্রামের জালাল সিকদারের ছেলে। রাইসার পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিফাত স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে রাইসাকে উত্ত্যক্ত করত। রাইসা তার অনিচ্ছা প্রকাশ করলে সিফাত পরিকল্পিতভাবে তার শরীরে আগুন দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার দুপুরে সিফাত রাইসাকে একা দেখে পথরোধ করে। রাইসাকে টেনে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রাইসা চিৎকার করতে থাকে। এর পর সিফাত তার শরীরে আগুন দিয়েছে। পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম ঘটনাটি দেখে স্থানীয় লোকজনকে ডাকেন। দ্রুত স্থানীয়রা রাইসাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে নেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠানো হয়। সেখানে সোমবার ভোরে রাইসার মৃত্যু হয়।
নিচের টেবিলে মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্যসূচি | বিবরণ |
|---|---|
| বয়স | ১০ বছর |
| আহত অবস্থায় ভর্তি | বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় |
| উন্নত চিকিৎসা | ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি, ঢাকা |
| দগ্ধের ধরন | থার্ড ডিগ্রি বার্ন, কাপড় চামড়ার সঙ্গে লেগে গেছে |
| চিকিৎসক মন্তব্য | মুহূর্তের মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলেও বাঁচার সম্ভাবনা কম ছিল |
মৃত্যুর আগে রাইসার দেওয়া জবানবন্দির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে রাইসা বলেছে, ‘আমাকে খারাপ জিনিস কইছে, আমি রাজি হইনি, তাই সিফাত আমার গায়ে আগুন দিয়েছে।’
বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম ঘটনার পর জানান, ‘ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাইসা হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত সিফাত সিকদার পলাতক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সমাজে শিশু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায়।