গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ না করা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে হত্যার পর তাঁর মরদেহ পুড়িয়ে গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ১৬ দিন পর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত যুবকের নাম আতিকুর রহমান (৩২)। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তাইজুল ইসলামের ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে শ্রীপুর উপজেলার বৃন্দাবন এলাকার একটি আঞ্চলিক সড়কের পাশে আগুনে পোড়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমরান হাসান (২৪), টুটুল হাসান (২০), নাজমুল (৩৫), কামাল হোসেন (৩২), রুহানুল ইসলাম রুহান (২৩) ও আকবর (২৯)। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ইমন হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত আতিকুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আসামি নাজমুলের পরিচালিত একটি সমিতি থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ না করে আতিকুর আত্মগোপনে চলে গেলে পাওনাদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে খুঁজে বের করে শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামে নাজমুলের বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
সেখানে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি বস্তায় কাঁঠালপাতা ভরে তার মধ্যে লাশ রাখা হয়। এরপর বৃন্দাবন এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বস্তার ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়।
নিম্নে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | আতিকুর রহমান (৩২) |
| বাড়ি | কামালপুর, নান্দাইল, ময়মনসিংহ |
| লাশ উদ্ধারের তারিখ | ২৮ ফেব্রুয়ারি |
| স্থান | বৃন্দাবন, শ্রীপুর, গাজীপুর |
| গ্রেপ্তার সংখ্যা | ৬ জন |
| হত্যার কারণ | ঋণের টাকা পরিশোধ না করা |
| হত্যার পদ্ধতি | শ্বাসরোধ |
| লাশ গুমের চেষ্টা | পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া |
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনানুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।