খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান সরকারের এই পদক্ষেপে প্রণালীর মধ্য দিয়ে সাধারণ বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কিছু দেশ সীমিত পরিসরে এই প্রণালী ব্যবহার করতে পারছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, তুরস্ক ও ভারতসহ কয়েকটি দেশ এই সময় হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ পারাপারের অনুমতি পেয়েছে। তবে অনুমোদিত জাহাজের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই বাছাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।
এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপর তীব্র প্রভাব ফেলেছে। প্রণালী বন্ধ থাকায় তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে পণ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সীমিত সাফল্যের খবর এসেছে। সম্প্রতি পাকিস্তান তাদের ‘করাচি’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা জটিলতার কারণে এ ধরনের সফল পারাপারের ঘটনা খুবই বিরল।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, ইরাকের তেলমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরাকের তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে এ পর্যন্ত কোনো জাহাজের সফল পারাপারের খবর পাওয়া যায়নি।
নীচের টেবিলে সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| দেশ | জাহাজ পারাপারের অনুমতি | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ইরান | সীমিত অনুমতি দেয় | নিরাপত্তা বাহিনী বাছাই করে অনুমোদন দেয় |
| ভারত | সীমিত | নির্দিষ্ট জাহাজ পারাপারের সুযোগ পায় |
| তুরস্ক | সীমিত | কিছু জাহাজ পার হতে পারে |
| পাকিস্তান | ১টি সফল | ‘করাচি’ ট্যাঙ্কার পারাপার সফল |
| ইরাক | প্রত্যাশিত | সমঝোতা হয়েছে, এখনও জাহাজ পার হয়নি |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে সীমিত পারাপার ও সমঝোতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক চাপে সহায়তা করছে।
এছাড়া, প্রণালীর এই অচলাবস্থা শুধুমাত্র তেল ও গ্যাস নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত সমঝোতা ছাড়া এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের রূপ নিতে পারে।
মোট কথা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সীমিত কিছু দেশ ও জাহাজ পারাপারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ মুক্তি এনে দিতে পারবে না।
এখন এই পরিস্থিতি কতোদিন স্থায়ী হবে এবং তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে।