২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে পড়েছে মালয়েশিয়া। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তাদের নেপাল ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে দুটি জয় বাতিল করেছে। এ পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ, মালয়েশিয়ার জাতীয় দলে এমন খেলোয়াড় খেলানো হয়েছে যারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য নয়। অর্থাৎ, জাতীয় দলে অযোগ্য খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণকে শাস্তিমূলক হিসেবে দেখা হয়েছে।
বাছাইপর্বের ‘এফ’ গ্রুপে তৃতীয় রাউন্ডে নেপাল ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার ৩-০ গোালের জয় বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে গ্রুপের তালিকায় মালয়েশিয়া ভিয়েতনামের (১৫ পয়েন্ট) তুলনায় ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে। মালয়েশিয়ার জন্য এখন বাকি রয়েছে মাত্র একটি ম্যাচ। এ অবস্থায় গ্রুপের শীর্ষে থেকে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সম্ভাবনা শূন্যে নেমে এসেছে।
গ্রুপ ‘এফ’-এর বর্তমান অবস্থা
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | হেরে | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|
| ভিয়েতনাম | ৫ | ৫ | ০ | ০ | ১৫ |
| মালয়েশিয়া | ৫ | ৩* | ১ | ১ | ৯* |
| নেপাল | ৫ | ১ | ০ | ৪ | ৩ |
| লাওস | ৫ | ০ | ১ | ৪ | ১ |
*মালয়েশিয়ার দুটি জয় বাতিল করা হয়েছে।
এএফসি মালয়েশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। ফেডারেশন তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, “এএফসির অফিসিয়াল নোটিশ পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
এর আগে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস) এই মাসের শুরুতে ফিফার দেওয়া শাস্তি আংশিক বহাল রাখে। ভুয়া নাগরিকত্ব ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার হয়ে খেলা সাত খেলোয়াড়কে ১২ মাসের জন্য শুধুমাত্র অফিশিয়াল ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সিএএস জানিয়েছে, ফিফার আরোপিত ৩ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৭৫ ডলার) জরিমানা মালয়েশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে দিতে হবে।
নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম ফাকুন্দো গারসেস, যিনি স্পেনের ক্লাব Deportivo Alavés-এ সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলেছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই সাত খেলোয়াড়ের এক বছরের নিষিদ্ধাদেশ জারি করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তারা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার হয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছিল।
এই শাস্তির ফলে মালয়েশিয়ার স্বপ্নভঙ্গ হলো, এবং ২০২৭ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ভিয়েতনাম একমাত্র টিকিট নিশ্চিত করেছে।