খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় গুরুতর আহত ময়মনসিংহের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা।
নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হামলার পর থেকে তিনি আল খারিজ শহরের ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের আল তোয়াইক বলদিয়া কম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল হামলা সংঘটিত হয়। এতে মামুনসহ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। মামাতো ভাই শাওন মোড়ল বলেন, “বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মামুন হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”
হামলার ঘটনায় সৌদি আরবে কর্মরত অন্যান্য প্রবাসী ও স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য, একই হামলায় কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও কয়েকজন প্রবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
| নাম | বয়স | গ্রামের ঠিকানা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| আব্দুল্লাহ আল মামুন | ৩৫ | ময়মনসিংহ, গফরগাঁও, ভরভরা গ্রাম | মৃত |
| বাচ্চু মিয়া | অজানা | কিশোরগঞ্জ | মৃত |
| মোশাররফ হোসেন | অজানা | টাঙ্গাইল | মৃত |
| অন্যান্য আহত প্রবাসী | অজানা | বিভিন্ন | গুরুতর আহত |
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন ছিলেন পরিবারের একমাত্র জীবিকা নির্বাহকারী। তার অকাল মৃত্যু পরিবারের ওপর গভীর শোক নেমেছে। স্থানীয় মানুষও তার মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত।
সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে, বিদেশে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীদের স্বজনরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেবে।