খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
বলিউডের সুপরিচিত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে প্রকাশ করেছেন কেন তিনি ‘ফেভিকল সে’ গান গাইতে অস্বীকার করেছিলেন এবং কেন ‘চিকনি চামেলি’ গান নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
‘ফেভিকল সে’ গানটি ছিল সালমন খান ও কারিনা কাপুর অভিনীত ‘দাবাং ২’ ছবির একটি সুপারহিট ট্র্যাক। শ্রেয়া জানান, গানটির লিরিক্সে এমন কিছু শব্দ ছিল যা তার নৈতিক ও ব্যক্তিগত মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশেষ করে “চিকেন বানা কে খা লে” ধরনের লাইন গাইতে তিনি ভীষণ অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন। নিজের নীতি বজায় রেখে তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
শ্রেয়া বলেন, “আমি কখনও এমন কাজ করি না যা আমার নৈতিক ও ব্যক্তিগত মানদণ্ডের সঙ্গে মিল না খায়। তাই আমি সেই গানটি গাইনি।”
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যদি শ্রেয়া নারী সম্মান রক্ষায় এত সচেতন হন, তবে ‘চিকনি চামেলি’ গানটি কেন গেয়েছিলেন। শ্রেয়া জানান, সেই সময় তিনি অনেক শব্দের গভীর অর্থ বোঝার মতো পরিপক্বতা অর্জন করেননি। বর্তমানে তিনি এমন কোনো গান রেকর্ড করতে চান না যা নারীদের অবমাননার মাধ্যমে উপস্থাপন করে।
শ্রেয়া স্পষ্ট করেছেন যে, এখন তিনি গান বাছাই করার ক্ষেত্রে লিরিক্স এবং বিষয়বস্তুর প্রতি খুবই সংবেদনশীল। যদি কোনো গান নৈতিকভাবে বা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে তিনি সেই কাজ করবেন না।
শ্রেয়া বর্তমানে গান রেকর্ডিং থেকে কিছুটা বিরতি নিচ্ছেন। তিনি চাচ্ছেন প্রতিটি গান যেন মানসম্মত, নৈতিক এবং শ্রোতাপ্রিয় হয়। তার এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত নীতির প্রকাশ নয়, বরং শিল্পী হিসেবে তার সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও প্রতিফলিত করে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিতর্কিত গান | ফেভিকল সে (দাবাং ২) |
| গান প্রত্যাখ্যানের কারণ | অশালীন লিরিক্স, নৈতিক অসঙ্গতি |
| পূর্বের সমালোচিত গান | চিকনি চামেলি |
| সমালোচনার প্রতিক্রিয়া | তখন পরিপক্বতা না থাকার কারণে গান গাওয়া হয়েছিল |
| বর্তমান নীতি | নারী সম্মান রক্ষা, নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি সচেতনতা |
শ্রেয়া ঘোষালের এই খোলামেলা বক্তব্য তার নৈতিকতা, শিল্পী হিসেবে দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতার পরিচায়ক। ফ্যানরা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারীরা তার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা শ্রেয়ার শিল্পী হিসেবে অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
শ্রেয়া ভবিষ্যতে শুধুমাত্র এমন গান রেকর্ড করবেন যা নৈতিক, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং মানসম্মত।