খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় এক তরুণ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ফতুল্লার পাগলা আলীগঞ্জ এলাকার জালাল মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে সাবিনা বেগম চম্পা (২২) নামের এই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাবিনা বেগম চম্পা পটুয়াখালী জেলার বালাপাড়া থানার ফতেপুর পাখিমারা গ্রামের মোতালেব মিয়ারের কন্যা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি ফতুল্লায় স্বামী রনি মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন। রনি মিয়া স্থানীয় একটি রোলিং মিলের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রাতেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন। তবে বুধবার সকালে রনি মিয়া তার স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ফতুল্লা মডেল থানায় খবর দেন। নিহত সাবিনার শরীরে কোনও আঘাত বা আঘাতজনিত চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা মৃত্যুকে আরও রহস্যময় করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াসিম খান জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। এ মুহূর্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।” পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অনুসারে স্বাভাবিক মৃত্যু, বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক কারণেই মৃত্যু ঘটতে পারে, তবে এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের স্বামী রনি মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীও এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
নিচের টেবিলটিতে মৃতদেহের প্রাথমিক তথ্য ও পরিবারের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | সাবিনা বেগম চম্পা |
| বয়স | ২২ বছর |
| পিতার নাম | মোতালেব মিয়া |
| গ্রামের নাম | ফতেপুর পাখিমারা, বালাপাড়া, পটুয়াখালী |
| বাসস্থানের এলাকা | পাগলা আলীগঞ্জ, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ |
| স্বামীর নাম | রনি মিয়া |
| স্বামীর পেশা | রোলিং মিল কর্মচারী |
| মৃত্যুর তারিখ | ১৮ মার্চ ২০২৬ |
| শরীরে আঘাত | নেই (প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ) |
| পুলিশ তদন্ত | চলমান, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় |
স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটিত হবে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা পুনর্ব্যক্ত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের হলে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা হবে।