খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে চৈত্র ১৪৩২ | ২০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্চ ২০২৬-এর প্রথম দুই সপ্তাহে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশে $২.২ বিলিয়ন (প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত, বেসরকারি এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে আগ্রাণী ব্যাংক $১৬৪.৫২ মিলিয়ন রেমিট্যান্স আনার মাধ্যমে শীর্ষে রয়েছে। জনতা ব্যাংক $১২৯.৯২ মিলিয়ন এবং সোনালি ব্যাংক $৬৩.০৮ মিলিয়ন রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। এভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট রেমিট্যান্স $৩৭২.৪৯ মিলিয়ন।
বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক $২৭২.৮৮ মিলিয়ন রেমিট্যান্স পেয়েছে। ব্যাংকটি মূলত গ্রামীণ এবং কৃষি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পরিচালনা করে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো মোট $১.৫৫ বিলিয়ন রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৭০ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ $৩৯৫.২৯ মিলিয়ন নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, এরপর ব্র্যাক ব্যাংক $২২৮.২৪ মিলিয়ন এবং ট্রাস্ট ব্যাংক $১৬২.৫৩ মিলিয়ন। বেসরকারি ব্যাংকের বড় অংশের অবদান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট অবদান $৪.৫৪ মিলিয়ন। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক $৩.৩৭ মিলিয়ন রেমিট্যান্স আনার মাধ্যমে এগিয়ে রয়েছে। অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে $১.১৭ মিলিয়ন রেমিট্যান্স এসেছে।
নিচের টেবিলে ব্যাংক ও তাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ব্যাংক শ্রেণি | ব্যাংকের নাম | রেমিট্যান্স (মিলিয়ন ডলার) |
|---|---|---|
| রাষ্ট্রায়ত্ত | আগ্রাণী ব্যাংক | 164.52 |
| রাষ্ট্রায়ত্ত | জনতা ব্যাংক | 129.92 |
| রাষ্ট্রায়ত্ত | সোনালি ব্যাংক | 63.08 |
| বিশেষায়িত | বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক | 272.88 |
| বেসরকারি | ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ | 395.29 |
| বেসরকারি | ব্র্যাক ব্যাংক | 228.24 |
| বেসরকারি | ট্রাস্ট ব্যাংক | 162.53 |
| বিদেশি | স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক | 3.37 |
| বিদেশি | অন্যান্য বিদেশি ব্যাংক | 1.17 |
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো এই রেমিট্যান্স ঈদকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখছে এবং বিশেষ করে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে।
প্রতি বছর ঈদের আগে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। তবে এবার বেসরকারি ব্যাংকের বড় অংশের অবদান দেশের অর্থনৈতিক চক্রকে আরও সক্রিয় করেছে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করেছে।