খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন এবার উদাস ও ফিকে হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, সিরিয়ার বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং লেবানন ও ইরানের অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই ভয়াবহ প্রেক্ষাপটে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী শিবিরে বা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েতে বসবাসকারী সিরীয় শরণার্থী আলা বর্তমানে গৃহহীন। ইসরায়েলি হামলার কারণে তার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং লেবাননের রাজধানীতে আশ্রয় খুঁজে দিন কাটাচ্ছেন। আলা বলেন, “একটি স্কুলে থাকার সুযোগ না পেয়ে আমাকে কার্নিশে ঘুমাতে হতো। এখন আমাকে পৌরসভা এখানে আসতে বলেছে, কিন্তু একটি তাঁবুও পাইনি।” আলার মতো দশ লাখের বেশি মানুষ লেবাননে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিরাপদ আশ্রয় ও মৌলিক প্রয়োজনীয়তা এখনও অনিশ্চিত।
ইরানে পরিস্থিতি তেমনিই কঠিন। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধাভিযান তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার ক্ষতিগ্রস্ত এবং সাধারণ মানুষ ছুটির মৌসুমে কেনাকাটা করতে পারছে না। অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঈদের কেনাকাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গাজায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের অবস্থা আরও করুণ। ৬২ বছর বয়সী খালেদ দিব বলেন, “বাইরে ঈদের আবহ প্রাণবন্ত মনে হলেও আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন। যুদ্ধ ও ইসরায়েলের অবরোধে আমি মেয়ের জন্য উপহার বা ঈদের পোশাকও কিনতে পারব না। শিশুদের খেলনা বা মিষ্টি তো দুঃস্বপ্ন।” গাজার অর্থনীতি যুদ্ধের কারণে সংকুচিত, খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপণ্য অভাবের মধ্যে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এই বছর ঈদ উদযাপনকে সীমিত করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা, খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সংগ্রাম করছে। বহু পরিবার উৎসবকে ভুলে গিয়ে জীবিকার সন্ধানে ত্রস্ত।
নিচে পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অঞ্চল | লেবানন, সিরিয়া, ইরান, গাজা |
| বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি | দশ লাখের বেশি |
| প্রধান সমস্যা | গৃহহীনতা, খাদ্য ও নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক সংকট |
| প্রধান সংঘাত | ইসরায়েলি হামলা, মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান, অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ |
| ক্ষতিগ্রস্ত | উপশহর দাহিয়ে, বৈরুত, তেহরান, গাজা শহর |
| ঈদ উদযাপন | সীমিত, উৎসবমুখী নয়, শুধুমাত্র প্রার্থনা ও ব্যক্তিগত স্বল্প উৎসব |
| শিশুরা ও পরিবার | খেলনা, পোশাক, মিষ্টি কেনা সম্ভব নয় |
| আশা | সংঘাতের অবসান ও মৌলিক জীবনযাত্রার পুনরুদ্ধার |
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ঈদ উদযাপন হয়ে উঠেছে ভয় ও সীমিত আনন্দের দিন, যেখানে মানুষ নিজের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য সংগ্রাম করছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে ধর্মীয় উৎসবও কখনো কখনো যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাবে ফিকে হয়ে যেতে পারে, আর মানুষের মন ও সামাজিক জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সামনে এনে দেয়।