খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকায় চাঁদরাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে মো. রাজু (৩০) নামের এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ওই এলাকায়। নিহত রাজু আব্দুল খালেক সারেং বাড়ির মো. হারুনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে একটি ছোট গাছকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন রাজুর আত্মীয় মো. আজম বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। রাজু শান্ত করতে এগিয়ে গেলে উল্টো তাদের মধ্যে তর্ক ও হাতাহাতি শুরু হয়। যদিও প্রথমে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত মনে হলেও, রাতের মধ্যে তারই জের ধরে দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
রাত ৯টার দিকে মো. আজম, তার চার ছেলে এবং সহযোগী আনোয়ার রাজুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা ইট, লাঠি এবং সোটা দিয়ে রাজুকে নির্মমভাবে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মো. আজমকে আটক করে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত রাজু শান্তিপ্রিয় প্রকৃতির ছিলেন এবং এলাকায় সক্রিয়ভাবে সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন। তবে সামান্য বিষয়কেও যে তীব্র বিরোধে রূপ নিতে পারে, তা এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | মাদামবিবিরহাট, ভাটিয়ারী ইউনিয়ন, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
| তারিখ ও সময় | ২০ মার্চ ২০২৬, রাত ৯টা |
| নিহত | মো. রাজু, ৩০ বছর |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. আজম |
| সহযোগী | আজমের চার ছেলে ও আনোয়ার |
| হত্যার পদ্ধতি | ইট, লাঠি, সোটা দিয়ে আঘাত |
| ঘটনার প্রেক্ষাপট | সন্ধ্যায় গাছ নিয়ে বিরোধ, রাতের পরিকল্পিত আক্রমণ |
| পুলিশি ব্যবস্থা | একজন আটক, ময়নাতদন্ত, অন্যান্যদের খুঁজছে |
সব মিলিয়ে, চাঁদরাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। সামান্য বিরোধও কীভাবে প্রাণঘাতী হতে পারে, তা এ ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।