পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হচ্ছে। ইরানের ডিফেন্স কাউন্সিল সোমবার (২৩ মার্চ) ঘোষণা করেছে, তাদের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায়, তবে পুরো পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপন করা হবে। এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরানি ডিফেন্স কাউন্সিল স্পষ্ট করে জানায়, তারা কোনো আক্রমণ সহ্য করবে না এবং শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের একমাত্র উপায় হলো ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা। “ইরানি উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে শত্রুপক্ষ কোনো আক্রমণ করলে পারস্য উপসাগর ও উপকূলের সমস্ত প্রবেশপথে নৌ-মাইন স্থাপন করা হবে। ফলে পুরো অঞ্চল কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাবে এবং এর দায়ভার হুমকি প্রদানকারী দেশগুলোর ওপর পড়বে।”
এই হুমকির সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। নয়ত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে টার্গেট করে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি ও ইরানের উত্তর একসঙ্গে পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের সম্ভাব্য প্রভাব বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০% কাঁচা তেল সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে নৌ-মাইন বসানো হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সীমিত হবে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে।
নিচে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| হুমকির ধরন |
পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপন |
| হুমকি প্রদানকারী |
ইরান ডিফেন্স কাউন্সিল |
| কারণ |
ইরানি উপকূল ও দ্বীপে হামলা প্রতিহত করা |
| যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ |
ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি |
| সম্ভাব্য প্রভাব |
হরমুজ প্রণালী বন্ধ, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিপন্ন |
| শান্তিপ্রিয় দেশদের পরামর্শ |
ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা ছাড়া প্রণালী অতিক্রম সম্ভব নয় |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ছড়াতে পারে। পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপনের হুমকি শুধুমাত্র সামরিক প্রতিরক্ষা নয়, এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান এবং উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে। কারণ যেকোনো তাত্ক্ষণিক হামলা বা নৌ-মাইন স্থাপন মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।