মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান সৌদি আরবের ওপর হামলার তীব্রতা কমিয়ে দিয়েছে। সরাসরি পাল্টা প্রতিহামলার আশঙ্কা এবং সৌদি ‘রেডলাইন’–এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি সৌদি আরবে আক্রমণ অব্যাহত রাখা হয়, তবে দেশটি সরাসরি ইরানে আঘাত হানতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে প্রবেশের পর থেকে ইরান সৌদি আরবে প্রায় ৪৩০টি মিসাইল ও ড্রোন ছুঁড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫% হামলা সৌদি পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করেছে, যেখানে দেশটির প্রধান তেল পরিশোধনাগার ও কাঁচামালের বিপুল ভাণ্ডার অবস্থিত। এছাড়া সায়বাহ তেলক্ষেত্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আল-খার্জে অঞ্চলে রয়েছে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করছে। বেশিরভাগ মিসাইল এবং আংশিক ড্রোন হামলা এই অঞ্চলের লক্ষ্যভূক্ত ছিল।
সৌদি আরব ইতিমধ্যে ইরানকে জানিয়েছে, তাদের ‘রেডলাইন’–এর মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত। যদি এসব স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে সৌদি আরব দ্রুত এবং সরাসরি পাল্টা হামলা চালাবে। এ কারণে ইরান আপাতত সৌদি আরবের ওপর বড় আকারের আক্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান কাতারের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত রাখলেও, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের হামলা আগের মতো অব্যাহত থাকবে। সৌদি আরব সম্প্রতি তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও হামলার তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| হামলার দেশ |
সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| হামলার ধরন |
মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ |
| ইরানের সিদ্ধান্ত |
সৌদিতে বড় আকারের হামলা সীমিত, কাতারে আপাতত বিরতি |
| কারণ |
সরাসরি পাল্টা হামলার আশঙ্কা, সৌদির ‘রেডলাইন’ সম্মান করা |
| লক্ষ্যস্থল |
সৌদি পূর্বাঞ্চল (তেল পরিশোধনাগার), সায়বাহ তেলক্ষেত্র, আল-খার্জে বিমানঘাঁটি |
| সম্ভাব্য প্রভাব |
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা স্থিতিশীল না হওয়া, বৈশ্বিক তেল বাজারে চাপ |
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে নিরাপদ হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সম্পূর্ণ কমবে না। সামরিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব এবং সামরিক সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উত্তেজনার এই পরিস্থিতি নির্দেশ করছে—যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা সব পক্ষকে সংযম ও কৌশলগত পরিকল্পনার দিকে বাধ্য করছে।