খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে, যেখানে স্বামীর গলায় ছুরি ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটে সোমবার ভোর ৪টার দিকে। ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী ঘুমাচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্তরা হঠাৎ তাদের ঘরে প্রবেশ করে। রূপগঞ্জ থানার ওসি সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা প্রথমে নারীর মুখ চেপে ধরেন এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখান। স্বামী এগিয়ে গেলে তাকেও অস্ত্রের মুখে আটকানো হয়।
অভিযুক্তরা হুমকি দেন, তাদের কথা না মানলে তারা নারীর, স্বামীর এবং ঘুমন্ত শিশুসন্তানকে হত্যা করবে। একপর্যায়ে আব্বাস ও আফজাল খান ভুক্তভোগী নারীর প্রতি যৌন নিপীড়ন চালান। এরপর তারা ভুক্তভোগীর ঘর থেকে দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান।
পরবর্তী দিন মঙ্গলবার পুলিশ উপজেলার দিঘীবরাবো বৌবাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: দিঘীবরাবো এলাকার মৃত রাসেল মিয়ার ছেলে আফজাল খান এবং একই এলাকার ইসলাম ড্রাইভারের ছেলে আব্বাস। পুলিশ পরে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারী নিজেই রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওসি সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, যদি আরও কেউ এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | স্বামীর গলায় ছুরি ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণ |
| সময় ও স্থান | ২৩ মার্চ ভোর ৪টা, দিঘীবরাবো, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ |
| ভুক্তভোগী | স্থানীয় গৃহবধূ, স্বামী ও ঘুমন্ত সন্তান সহ |
| অভিযুক্ত | আফজাল খান (রাস্তের মৃত রাসেল মিয়ার ছেলে), আব্বাস (ইসলাম ড্রাইভার ছেলে) |
| অভিযোগ | ভয়ের মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন, হুমকি ও মোবাইল ফোন ছিনতাই |
| পুলিশি ব্যবস্থা | দুজন গ্রেফতার, মোবাইল ফোন উদ্ধার, মামলা দায়ের |
| তদন্তের অবস্থা | আরও জড়িতদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হবে |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ধরনের নৃশংস ঘটনায় দ্রুত এবং কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা না নিলে জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বৃদ্ধি পায়।
রূপগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নারীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সতর্কতা বৃদ্ধির বিষয়টি পুনরায় প্রমাণ করেছে। পুলিশ এবং প্রশাসন জানিয়েছে, জনসাধারণকে নিরাপদ রাখার জন্য তারা যেকোনো প্রয়াস গ্রহণ করতে প্রস্তুত।