খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ লেবাননে স্থলযুদ্ধ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত তীব্র ও জটিল হয়ে উঠেছে। এছাড়া হিজবুল্লাহ তাদের যোদ্ধাদের দ্বারা একটি ইসরায়েলি মার্কাভা ট্যাংক ধ্বংসের দাবি করেছে। এ খবর নিশ্চিত করেছে আল-জাজিরা।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা মধ্য তেল আবিবের ‘কিরিয়া’ এলাকায় বেশ কিছু বিশেষায়িত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় অবস্থিত। হামলার পাশাপাশি শহরের উত্তরে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও এ ঘটনার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর এই হামলা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের কান্তারা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এই সংঘর্ষে তারা একটি মার্কাভা ট্যাংককে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণের দাবি করেছে। এছাড়া কান্তারা এলাকার সড়কে অগ্রসরমান ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হাতে-কলমে লড়াই হয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| লক্ষ্যবস্তু | হামলার ধরন | স্থান | হিজবুল্লাহ দাবি |
|---|---|---|---|
| ইসরায়েলি সেনা সদর দপ্তর | ক্ষেপণাস্ত্র | কিরিয়া, তেল আবিব | বিশেষায়িত ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আক্রমণ |
| সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা | ক্ষেপণাস্ত্র | তেল আবিব উত্তর | হামলা চালানো হয়েছে |
| মার্কাভা ট্যাংক | স্থলযুদ্ধ ও ক্ষেপণাস্ত্র | কান্তারা, দক্ষিণ লেবানন | ট্যাংক ধ্বংসের দাবি |
| অগ্রসর সেনা ইউনিট | স্থলযুদ্ধ | কান্তারা, দক্ষিণ লেবানন | সরাসরি সংঘর্ষে লড়াই |
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলার ফলে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কিরিয়া কমপ্লেক্সে হামলার ফলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
হিজবুল্লাহর এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন ধারা শুরু করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সীমান্তে সংঘর্ষ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ক্রমবর্ধমান হলে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।
এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা অবস্থা নিয়ে সজাগ থাকছেন এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নীতি কি হবে, সেটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্পষ্ট হবে।