খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সংযোগ দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আমদানি–রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে নিয়মিত ধারণা রাখা ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডলার–নির্ভর আমদানি ব্যয়, জ্বালানি তেল, শিল্প কাঁচামাল এবং বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে মুদ্রার ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলে।
শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার নিচে উপস্থাপন করা হলো। এসব হার আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, চাহিদা–জোগান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে।
| মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকা |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৫১ পয়সা |
| ইউরো | ১৪১ টাকা ৪০ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৩ টাকা ৪৯ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৪ টাকা ৫৬ পয়সা |
| জাপানি ইয়েন | ৭৭ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৮ টাকা ৪২ পয়সা |
| সুইডিশ ক্রোনা | ১৩ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫ টাকা ৩১ পয়সা |
| চীনা ইউয়ান রেনমিনবি | ১৭ টাকা ৭৩ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ৩০ পয়সা |
| শ্রীলঙ্কান রুপি | ২ টাকা ৫৩ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ৫৭ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৬৫ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৬৫ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৮ টাকা ৮০ পয়সা |
| ওমানি রিয়াল | ৩১৮ টাকা ৬৩ পয়সা |
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সাধারণত বৈশ্বিক সুদের হার, তেলের দাম, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রধান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের শক্তি বা দুর্বলতা বাংলাদেশের মতো আমদানি–নির্ভর অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে আসা রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় মুদ্রার বিনিময় হারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার হারের এই পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক। বিশেষ করে আমদানি–রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা নিয়মিত এই হার পর্যবেক্ষণ করলে ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।