খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য যথাযথ আইসোলেশন না থাকায় এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের অসুস্থ অন্যান্য শিশুদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এতে হাসপাতালের অন্যান্য শিশুদেরও হাম সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে চলতি মাসের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ৮৪ জন শিশুকে আইসিইউতে স্থানান্তরের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আইসিইউতে নেওয়ার পরও নয়জন শিশু মারা গেছেন। সর্বশেষ চারজন শিশুর জন্য আইসিইউ সুপারিশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু ঘটেছে।
| শিশুদের নাম | বয়স | উপজেলা/সদর | আইসিইউ সুপারিশ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| জান্নাতুল মাওয়া | ৮ মাস | দুর্গাপুর | আইসিইউ সুপারিশ | সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য শিশুদের সাথে রাখা |
| হুমায়রা বেগম | ৭ মাস | চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর | আইসিইউ সুপারিশ | মৃত |
| ফারহানা বেগম | ৯ মাস | শ্রীরামপুর | আইসিইউ সুপারিশ | মৃত |
| হিয়া বেগম | ৭ মাস | কুষ্টিয়া সদর | আইসিইউ সুপারিশ | সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য শিশুদের সাথে রাখা |
হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি শয্যা রয়েছে। তবে এটি হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা; সরকারিভাবে কোনো আলাদা ব্যবস্থা নেই।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। রোগী হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। এর জটিলতায় শিশুরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মাথার প্রদাহসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেলের ১০ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। আরও নমুনা সংগ্রহ চলছেই।
রাজশাহীর বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজে গত বুধবার ভর্তি হওয়া ২৮ শিশুর মধ্যে ২০ জনের হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগে তারা সবাইকে একসাথে রাখা হয়েছে।
রাজশাহী সিভিল সার্জন বলেন, “জেলার সব হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, হামের রোগী পেলে রিপোর্ট করতে এবং তাদের আলাদা রাখা উচিত।” তবে বাস্তবে আইসোলেশনের অভাব এবং রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান শাহিদা ইয়াসমিন বলেন, দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও অক্সিজেন সরবরাহ সীমিত। ঈদের আগে হাসপাতালকে ২০০ শয্যার জন্য ৭০০–এর বেশি রোগী ভর্তি ছিল, ফলে সাধারণ ওয়ার্ডে আলাদা করার প্রয়োজন হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেলে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের মৃত্যু এবং সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে। হাসপাতাল প্রশাসন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাপ তৈরি হচ্ছে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধা দ্রুত সম্প্রসারণ এখন অতি জরুরি।