সম্প্রতি ইরানের সামরিক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। রোববার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, এই হামলার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং এর জন্য ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে।
গারগাশ উল্লেখ করেন, “উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের যেকোনো আগ্রাসনের রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধে স্পষ্ট গ্যারান্টি, একে অপরকে আক্রমণ না করার নীতি, এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠী ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ প্রদান।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করেছিল। বর্তমানে তারা পরিকল্পিত আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং এটি উপসাগরীয় আরব নিরাপত্তার জন্য একটি প্রাথমিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।”
ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাত সংঘর্ষটি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আজ ৩০তম দিনে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের মধ্যে উভয় দেশের শিল্প, বেসামরিক স্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এর আগে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। এবার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের কাছ থেকে তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য পরিপূরক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
উপদেষ্টা গারগাশের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ ও হামলা রোধের কার্যকর ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেছেন।
নিচে সাম্প্রতিক সংঘাত ও ক্ষতিপূরণের সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় |
বিবরণ |
| সংঘাত শুরু |
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| সংঘাতের মেয়াদ |
৩০ দিন (বর্তমানে) |
| ক্ষতিপূরণ দাবিকারী |
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) |
| ক্ষতিপূরণ দাবির কারণ |
ইরানের সামরিক হামলায় বেসামরিক ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষতি |
| আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট |
আগের দিক থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছেও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল |
| মূল দাবিসমূহ |
ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধ, আক্রমণবিহীন নীতি, ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা |
| ইউএই উপদেষ্টার মন্তব্য |
ইরান ‘উপসাগরীয় নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাবির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ভবিষ্যতের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
সব মিলিয়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে সংঘাত মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।