ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা। সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এবং দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি তাঁর পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা প্রকট।
মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’ (PVA)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা লাভ করেছে। ২০১৬ সালে তাঁকে জাতিসংঘে সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করার পেছনে তিনি জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর একটি ‘শক্তিশালী লবি’-র প্রভাবকে দায়ী করেছেন।
সাফা তাঁর পোস্টে তেহরানের ছবি সংযুক্ত করে লিখেছেন, “মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি তেহরানকে “জনশূন্য মরুভূমি নয়” বলে উল্লেখ করে বলেন, “প্রায় এক কোটি মানুষের এই শহরে পরিবার, শিশু ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ বাস করে। যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনে পারমাণবিক হামলা হতো, পৃথিবী কেমন হতো?”
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ বা সাক্ষী না হওয়ার জন্য আমি দায়িত্ব স্থগিত করেছি। অনেক দেরি হওয়ার আগেই একটি পারমাণবিক শীতকাল (nuclear winter) ঠেকাতে চাইছি।”
সাফা যুক্তরাষ্ট্রে গত রবিবার অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বিশ্ববাসীকে রাজপথে নেমে মানবতার স্বার্থে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কেবল সাধারণ মানুষই এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে পারে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তিনি মূলত ২০২৩ সালেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং তিন বছর ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করতে চান না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত পোষণ করায় তাঁকে সমালোচনা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তথ্য সেন্সরশিপের শিকার হতে হয়েছে।
এই পদত্যাগ এবং অভিযোগ বিষয়ে জাতিসংঘ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
নিচে বিষয়টির সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
বর্তমান অবস্থা |
| কূটনীতিক |
মোহাম্মদ সাফা |
জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ |
| সতর্কবার্তা |
ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা |
বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন |
| দায়িত্বকাল |
২০১৩–২০২৬ |
PVA নির্বাহী পরিচালক, জাতিসংঘ স্থায়ী প্রতিনিধি |
| পদত্যাগের কারণ |
মানবতাবিরোধী পরিস্থিতির সাক্ষী হতে না চাওয়া |
তথ্য ফাঁস ও সতর্কবার্তা |
| উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
তেহরান, এক কোটি বাসিন্দা |
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা |
| বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া |
‘নো কিংস’ বিক্ষোভ |
সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের আহ্বান |
| অভিযোগ |
জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লবি |
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আড়ালে সমর্থন |
এই পদত্যাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরান পরিস্থিতি ও পারমাণবিক হুমকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ জনগণ ও কূটনৈতিক মহল উভয়েই এখন জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ-এর দিকে নজর রাখছে।