খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
ভারতে সম্ভাব্য একটি বড় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সমন্বিত অভিযানে পাকিস্তানভিত্তিক চরমপন্থি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সম্পৃক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি।
দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত শাব্বির আহমেদ লোনকেও আটক করা হয়েছে। তিনি কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা এবং অতীতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। ২০০৭ সালে তাকে একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস ধরে গোপন নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকা, কলকাতা, দিল্লি এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন স্থান থেকে ধাপে ধাপে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। এই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। তারা দেশের বগুড়া, ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তারা একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং সমন্বিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
| নাম | বয়স | জেলার নাম |
|---|---|---|
| মিজানুর রহমান | ৩২ | বগুড়া |
| জাহিদুল ইসলাম | ৪০ | বগুড়া |
| মোহাম্মদ লিটন | ৪০ | বগুড়া |
| মোহাম্মদ উজ্জ্বল | ২৭ | বগুড়া |
| উমর ফারুক | ৩২ | বগুড়া |
| মো. শাফায়েত হোসাইন | ৩৪ | ঝালকাঠি |
| রবিউল ইসলাম | ২৭ | ঠাকুরগাঁও |
অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাঁচটি পয়েন্ট অব সেল যন্ত্র, একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং প্রচারণামূলক পোস্টার। তদন্তকারীদের মতে, এসব উপকরণ ব্যবহার করে তারা আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শাব্বির আহমেদ লোন কিছু সময় বাংলাদেশে অবস্থান করে একটি গোপন আস্তানা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে তিনি নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তপথ ব্যবহার করে চলাচল এবং আত্মগোপন করার বিষয়টি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই চক্রটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা সফল হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। তবে সময়মতো অভিযান চালিয়ে সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জটিলতা তুলে ধরেছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো প্রায়ই একাধিক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ফলে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত উদ্যোগ এবং সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।