খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে একটি খাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আটটি ড্রাম ভর্তি বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার আলেকজান্ডার মাছঘাট এলাকার একটি সংলগ্ন খালে ঘটে। উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ প্রায় এক হাজার তিনশ লিটার বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তেল মজুত বা পাচারের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগতি থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় খালের পানির নিচে প্লাস্টিকের ড্রামের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় একে একে আটটি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ড্রামে ধারণা করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন পানির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
উদ্ধারের পর ড্রামগুলো রামগতি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত বা পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | আলেকজান্ডার মাছঘাট সংলগ্ন খাল |
| উপজেলা | রামগতি |
| জেলা | লক্ষ্মীপুর |
| উদ্ধারকৃত ড্রাম | ৮টি |
| আনুমানিক জ্বালানি | প্রায় ১,৩০০ লিটার ডিজেল |
| অভিযান সময় | মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত |
| অভিযানকারী সংস্থা | রামগতি থানা পুলিশ |
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন দেওয়ান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো চক্র অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সংগ্রহ করে তা পাচার বা অন্য উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। তবে এর পেছনে কারা জড়িত, কীভাবে এই জ্বালানি তেল খালে ফেলা হলো—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় তথ্য ও সম্ভাব্য নৌ-রুট ব্যবহার করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলেকজান্ডার মাছঘাট এলাকা নদী ও খালঘেঁষা হওয়ায় এখানে মাঝেমধ্যে নৌপথে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি লেনদেন হয়ে থাকে। তবে পানির নিচে এভাবে ড্রাম ভর্তি তেল পাওয়া যাওয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন এবং বিষয়টির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের উৎস শনাক্ত করা গেলে পুরো চক্রটি উন্মোচিত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি সুপরিকল্পিত গোপন মজুত বা অবৈধ পাচার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।