খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনটি আসনের ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আরও তিন প্রার্থীর পৃথক নির্বাচনী আবেদন গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আবেদনগুলো শুনানির জন্য গ্রহণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই আবেদনের মাধ্যমে বাগেরহাট-২, দিনাজপুর–৩ এবং ঠাকুরগাঁও–২ আসনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। আবেদনকারীরা ভোট গণনা, পোলিং শিটের অসংগতি, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
আবেদনকারী তিন প্রার্থী হলেন—
আদালতে বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনিজরুজ্জামান আসাদসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অপর দুই প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী এম কে শাহনেওয়াজ শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
নিচে সংশ্লিষ্ট তিন আসনের ফলাফলের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| আসনের নাম | বিজয়ী প্রার্থী | প্রাপ্ত ভোট | প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারী প্রার্থী | প্রাপ্ত ভোট |
|---|---|---|---|---|
| বাগেরহাট–২ | শেখ মনজুরুল হক | ১,১৭,৭০৯ | শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন | ৬৬,৪০৯ |
| দিনাজপুর–৩ | সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম | ১,৩৯,২০৭ | মো. মাইনুল আলম | ১,৩৪,৬১৮ |
| ঠাকুরগাঁও–২ | মো. আবদুস সালাম | ১,২১,০১৭ | মো. আবদুল হাকিম | ১,১৫,৭০৭ |
বাগেরহাট–২ আসনের আবেদনকারী প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অসামঞ্জস্যতা দেখা গেছে। পোলিং শিটে কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীর নাম থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অনুপস্থিত ছিল। আবার কোথাও নাম অসম্পূর্ণভাবে লেখা হয়েছে। এছাড়া কিছু কেন্দ্রে দুপুরের মধ্যেই পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
আইনজীবীরা আরও বলেন, এসব অনিয়মের কারণে নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে ব্যালট বাক্সসহ সব নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ দেন এবং আগামী ২১ মে শুনানির দিন ধার্য করেন।
অন্যদিকে দিনাজপুর–৩ ও ঠাকুরগাঁও–২ আসনের আবেদনকারী দুই প্রার্থী ভোট গণনায় অনিয়ম ও ফলাফল ঘোষণায় কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। তাদের আইনজীবীর দাবি, সঠিকভাবে পুনর্গণনা করা হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
এই দুই আসনের আবেদনেও ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গণনার মাধ্যমে আবেদনকারীদের বিজয়ী ঘোষণা করার প্রার্থনা করা হয়েছে। হাইকোর্ট এসব আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে এবং আগামী ১০ জুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর কোনো প্রার্থী অসন্তুষ্ট হলে তিনি নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ার আওতায় হাইকোর্টে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি নির্বাচনী আবেদন গ্রহণ ও শুনানির জন্য একটি একক বেঞ্চ গঠন করেন।
পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে একাধিক আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। অবকাশকালীন সময়েও বেঞ্চটি নির্বাচনসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধারাবাহিকতায় নতুন করে আরও তিনটি আবেদন গ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকল।