খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটার ঘটনায় নতুন আইনি অগ্রগতি এসেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত, ১১ জন আহত এবং ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) আদালতে ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত শেষে মোট ৪ জনকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই জন মারা যাওয়ায় এবং দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত মূল আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করেছেন। তারা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা, গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করেছেন। এর ফলে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরদিন, ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়।
নিচে ঘটনাপত্র ও চার্জশিটের মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ড |
| তারিখ ও সময় | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, রাত পৌনে ১০টা |
| মৃত্যু সংখ্যা | ৪৬ জন (৩ জন আগুনে পুড়ে মারা যান) |
| আহত | ১১ জন |
| জীবিত উদ্ধার | ৭৫ জন |
| অভিযোগপত্রে আসামি সংখ্যা | ২২ জন |
| দায়মুক্তির সুপারিশ | ৪ জন (২ জন মৃত, ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অপ্রমাণিত) |
| অভিযোগ | সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা, প্রাণহানি |
| তদন্তকারী | সিআইডি (পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী) |
| মামলার ধারা | দণ্ডবিধির সাতটি ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত |
সবমিলিয়ে, গ্রিন কোজি অগ্নিকাণ্ড মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি প্রক্রিয়া চলার প্রেক্ষাপটে আদালত এবং সিআইডি জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ঘটনায় অনিয়ম, অবহেলা ও অগভীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিপর্যয় সমাজে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।