খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
ফেনী সীমান্তে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিজেদের বিভিন্ন অভিযান এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্করস্থ বিজিবি সদর দপ্তরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুমানিক ২ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫১ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুমিল্লা সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান।
উল্লেখযোগ্য, ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্য ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন জব্দকৃত মাদক। বিজিবি জানিয়েছে, এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা না হলে যুব সমাজ, পরিবার ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারত।
ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের বিস্তারিত তালিকা নিম্নরূপ—
| মাদকদ্রব্যের ধরন | পরিমাণ | আনুমানিক বাজারমূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| বিভিন্ন প্রকার মদ | ৩,৬২৯ বোতল | অন্তর্ভুক্ত |
| ফেনসিডিল | ২,৯৭ বোতল | অন্তর্ভুক্ত |
| বিয়ার | ৩০৬ ক্যান ও ৭৬৫ বোতল | অন্তর্ভুক্ত |
| গাঁজা | ২৩০ কেজি | অন্তর্ভুক্ত |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১৩০ পিস | অন্তর্ভুক্ত |
| ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট | ১,২২,৭০৯ পিস | অন্তর্ভুক্ত |
| ডার্বিন ক্রিম | ৪০ পিস | অন্তর্ভুক্ত |
| কৌটা মাদক | ১০ বোতল | অন্তর্ভুক্ত |
| বাংলা মদ | ১ লিটার | অন্তর্ভুক্ত |
| মোট আনুমানিক বাজারমূল্য | — | ২ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫১ টাকা |
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, “মাদকদ্রব্য কেবল যুব সমাজকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজে অশান্তি এবং নানাবিধ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। আমাদের দায়িত্ব সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সার্বজনীন প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সীমান্ত এলাকায় মাদকপাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেনীস্থ ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান, এডি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খাঁন, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া, ফেনী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা বিকাশ সরকার, ফেনী র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান, ফেনী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
বিজিবি এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধুমাত্র সীমান্তে মাদকপাচার রোধ করছে না, বরং দেশের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার সামাজিক দায়বদ্ধতাও পূরণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান এবং মাদকদ্রব্য ধ্বংসের এই উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সবমিলিয়ে, ফেনীতে বিজিবির এই কার্যক্রম দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণে একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।