ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আজিজুর রহমান (৪৬) দীর্ঘ ১১ মাস ধরে ভারতের কারাগার ও হাসপাতালেই ছিলেন। সীমান্তে ঘাস কাটার সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে আটক করে। এরপর তাকে মারধর ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করা হয়। দীর্ঘ মাসব্যাপী চিকিৎসার পর তিনি গত ২২ মার্চ মারা যান। শুক্রবার বিকেলে ভারতের পুলিশ ও বাংলাদেশের বিজিবি ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আজিজুরের পরিবারের সাথে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ তার লাশ জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে হস্তান্তর করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তার দাফন কার্যক্রম শনিবার শাহানাবাদ গ্রামে সম্পন্ন হবে।
আজিজুর রহমানের পরিবার ও পরিস্থিতি
| বিষয় |
বিবরণ |
| পুরো নাম |
আজিজুর রহমান |
| বয়স |
৪৬ বছর |
| গ্রামের নাম |
শাহানাবাদ, ধর্মগড় ইউনিয়ন, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও |
| পরিবারের সদস্য |
দুই মেয়ে, এক মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে, স্ত্রী তাছকারা বেগম |
| পেশা |
দিনমজুর |
| মৃত্যুর তারিখ |
২২ মার্চ, ২০২৬ |
| মৃত্যুর স্থান |
শিলিগুড়ি সদর হাসপাতাল ও কারাগার, ভারত |
| মৃত্যুর কারণ |
মারধর ও নির্যাতন, গুরুতর অসুস্থতার পর মৃত্যু |
পরিবার ও প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন যে, আজিজুর কোনো অপরাধ করেননি। জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঘাস কাটার সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে আটক করে। সেখানে তাকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং গুরুতর জখম করা হয়। প্রথমে শিলিগুড়ির হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। অসুস্থতার কারণে তাকে পুনরায় হাসপাতাল পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান।
আজিজুরের স্ত্রী তাছকারা বেগম দাবি করেন, তার স্বামীর মৃত্যু মূলত একটি ‘হত্যাকাণ্ড’। দুই দেশের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহমেদ জানান, হাইকমিশনের কর্মকর্তা, বিএসএফ ও ভারতের পুলিশ যৌথভাবে লাশ হস্তান্তর করেছে। উপস্থিত ছিলেন বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিজিবির সদস্যরা।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম বলেন, “আজিজুরের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো সহায়-সম্বল নেই। আটকের সময় ধস্তাধস্তির কারণে বিএসএফ তাকে নির্যাতন করেছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা ও কারাগারে অবস্থানের কারণে তিনি মারা গেছেন।”
এভাবে একটি সাধারণ দিনমজুরের সীমান্ত দুর্ঘটনা দেশ-বিদেশের দৃষ্টিতে মানবাধিকার ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।