খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মোংলা বন্দরে জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে পণ্য খালাস ও নৌপরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ লাইটার জাহাজ তেলের অভাবে খালি বসে থাকায় মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে এবং বন্দর কার্যক্রমে তীব্র অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে গেছে। এই বিলম্বের কারণে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে। বিশেষত খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্প কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সরেজমিন দেখা যায়, শতাধিক খালি লাইটার জাহাজ নোঙর করে কয়েক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। একই অবস্থা খুলনার রূপসা নদীর ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায়ও বিরাজ করছে। এমভি আর রশিদ-১ লাইটারের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় পণ্যবোঝাই করতে যেতে পারেননি। তাঁরা লাইটারটি এক সপ্তাহ খালি রেখেছেন।
রূপসা এলাকায় অবস্থানরত সেভেন সার্কেল সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, মোংলা বন্দরে কাঁচামাল আনার পণ্যগুলো নির্দিষ্ট সময়ে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন বাণিজ্যিক জাহাজকে ১৭,০০০ ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামালের অভাব দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, লাইটার জাহাজ সংকটে উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বাজার ও সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
লাইটার মালিক ও এজেন্টদের বক্তব্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সমস্যা | লাইটার জাহাজ তেলের অভাবে খালি বসে থাকা |
| প্রভাবিত বন্দর | মোংলা, খুলনার রূপসা নদীর ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট |
| প্রধান পণ্য | খাদ্যশস্য, সার, শিল্প কাঁচামাল, সিমেন্ট |
| তেলের সরবরাহ সমস্যা | ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল আসছে না |
| প্রতিক্রিয়া | বিলম্বের জন্য জরিমানা, উৎপাদন ও পরিবহনে ব্যাঘাত |
| জাহাজ মালিকদের অভিব্যক্তি | তেলের অভাবে লাইটার নৌপরিবহন স্থবির |
| সম্ভাব্য প্রভাব | আমদানি-রপ্তানি ব্যাঘাত, মৎস্য আহরণ ও শিল্প সরবরাহে সমস্যা |
| সংশ্লিষ্ট সংস্থা | মেঘনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, এসকে এন্টারপ্রাইজ |
লাইটার জাহাজ সংকট দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। যেসব শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্ভরশীল তাদের পণ্যখালাস ও কাঁচামাল সরবরাহের ওপর, তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। বিশেষত মোংলা ও খুলনা অঞ্চলের নদী পরিবহন এই সংকটের মুখে পড়েছে।
জ্বালানি তেলের ঘাটতি মোংলা ও খুলনা বন্দরের কার্যক্রমে গভীর প্রভাব ফেলছে, যা আমদানি-রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে সংকটাপন্ন করেছে। দ্রুত তেল সরবরাহ ও লজিস্টিক সমাধান কার্যকর না হলে দেশের বাণিজ্য ও শিল্প চেইনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।