খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারি ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে, যাতে তারা মার্কিন বাহিনী ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন।
রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাশিয়ার স্যাটেলাইট ২১ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ১১টি দেশে কমপক্ষে ২৪ বার সরেজমিন নজরদারি করেছে। এতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্রসহ মোট ৪৬টি লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নজরদারির কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা একটি ধারাবাহিক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের ওপর নয়টি নজরদারি পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হাফার আল-বাতিনের কিং খালিদ মিলিটারি সিটির উপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যেখানে মার্কিন তৈরি থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তুরস্ক, জর্ডান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকা দুইবার করে নজরদারির আওতায় এসেছে। ইসরাইল, কাতার, ইরাক, বাহরাইন এবং ডিয়েগো গার্সিয়া নৌ ঘাঁটি একবার করে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
| দেশ / এলাকা | নজরদারি সংখ্যা | লক্ষ্যবস্তু | বিশেষ উল্লেখ |
|---|---|---|---|
| সৌদি আরব | ৯ | মিলিটারি সিটি | মার্কিন থাড সিস্টেম পর্যবেক্ষণ |
| তুরস্ক | ২ | বিমানবন্দর ও ঘাঁটি | স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ |
| জর্ডান | ২ | সামরিক ঘাঁটি | ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য |
| কুয়েত | ২ | সামরিক ও বন্দর এলাকা | হামলা পরিকল্পনা সহায়তা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ২ | বিমান ঘাঁটি | লক্ষ্য শনাক্তকরণ |
| ইসরাইল | ১ | জ্বালানি অবকাঠামো | হামলা পূর্বাভাস |
| কাতার | ১ | সামরিক অঞ্চল | ড্রোন লক্ষ্য |
| ইরাক | ১ | বিমানঘাঁটি | হামলা মূল্যায়ন |
| বাহরাইন | ১ | সামরিক ঘাঁটি | হামলা পূর্বাভাস |
| ডিয়েগো গার্সিয়া | ১ | নৌ ঘাঁটি | লক্ষ্য শনাক্তকরণ |
মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট হরমুজ প্রণালির ওপরও সক্রিয় নজরদারি চালাচ্ছে। বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়। ইরান এখন ‘বৈরী নয় এমন জাহাজ’ ছাড়া বাকি সকলের জন্য একটি অলিখিত অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, “কোনো দেশের বাইরের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সাফল্যকে প্রভাবিত করছে না।” রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আরও গভীর হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন, যেখানে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা তথ্য বিনিময় অন্তর্ভুক্ত।
সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রেও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা দিচ্ছে। রাশিয়ান হ্যাকার গ্রুপ ‘জেড-পেনটেস্ট অ্যালায়েন্স’, ‘নোনেম০৫৭(১৬)’ ও ‘ডিডোসিয়া প্রজেক্ট’ এবং ইরানের ‘হান্দালা হ্যাক’ একসাথে কাজ করছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগে হামলার জন্য টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে। একইভাবে, ইরানের ‘হোমল্যান্ড জাস্টিস’ ও ‘কর্মাবিলো৮০’ রাশিয়ার কৌশল ব্যবহার করছে।
মূল্যায়ন থেকে স্পষ্ট যে, রাশিয়ার নজরদারি ও ইরানের হামলার সমন্বয় একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল, যা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি ও প্রভাব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।