খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ভয়াবহ বিমান হামলার আশঙ্কায় ইরানের রাজধানী তেহরানজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়েছে। তেহরান প্রশাসনের এই নির্দেশনার পর সমগ্র ইরানজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত, যা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দিতে হবে। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী এই সময়সীমা বুধবার রাত ১২টায় শেষ হতে যাচ্ছে। তবে ইরান এই আল্টিমেটামকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের জলসীমায় কোনো ‘শত্রুপক্ষ’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না এবং কোনো চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়, তবে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। সম্ভাব্য হামলার তালিকায় ইরানের যে অবকাঠামোগুলো শীর্ষে রয়েছে:
বিদ্যুৎকেন্দ্র: দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা অচল করতে প্রধান পাওয়ার গ্রিডগুলো।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: প্রধান প্রধান সেতু, টানেল এবং মহাসড়ক।
তেল শোধনাগার: অর্থনীতির প্রধান উৎস ধ্বংস করা।
পারমাণবিক স্থাপনা: দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ কেন্দ্রগুলো।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তেহরানের জনবহুল এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
নিচে চলমান উত্তেজনার প্রধান দিকগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব |
| সতর্কতা অবস্থা | তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে রেড এলার্ট জারি। |
| মার্কিন আল্টিমেটাম | মঙ্গলবার রাত ৮টার (GMT বুধবার ১২টা) মধ্যে প্রণালি খোলার নির্দেশ। |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান এবং প্রণালি বন্ধ রাখার অনমনীয় সিদ্ধান্ত। |
| হামলার ধরন | বিমান হামলা, মিসাইল অ্যাটাক এবং সাইবার হামলার আশঙ্কা। |
| আঞ্চলিক প্রভাব | বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা। |
চলমান এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খণ্ডকালীন বা সাময়িক কোনো সমঝোতা তারা মানবে না। তাদের দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ‘সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি’। ইরান মনে করে, শুধু যুদ্ধবিরতি সমস্যার মূল সমাধান নয়, বরং এই অঞ্চলে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ফিলিস্তিনসহ অমীমাংসিত সংকটের স্থায়ী সমাধানই শান্তি ফেরাতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ। এই পথ বন্ধ থাকা বা এখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও যুদ্ধংদেহী মনোভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন আর সাধারণ মানুষের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা সমগ্র বিশ্বের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।